প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একান্ত আমন্ত্রণ। সচরাচর এই সুযোগ মেলে না। তবে শুক্রবার সকালে রাজ্যের ২০ জন এনসিপিআই সাংসদ-সহ এনডিএ-তে নতুন করে যোগ দেওয়া ৪৭ জন সাংসদ সেই সুযোগ পেলেন। বলা বাহুল্য, সেই সুযোগ লুফে নিলেন সায়নী ঘোষ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, বাপি হালদাররা। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে নিজেদের এলাকার সমস্যার কথা তুলে ধরলেন সাংসদরা। তবে সেসবেরও আগে পেলেন নিজেদের কাজের মার্কশিট।
শুক্রবারের ব্রেকফাস্ট বৈঠকে যোগ দেন মোট ৪৭ সাংসদ। সেখানে প্রত্যেকের নামাঙ্কিত আলাদা আলাদা চেয়ার ছিল। সেই চেয়ারে একটি করে মুখবদ্ধ খাম রাখা ছিল। ওই খাম আসলে প্রত্যেক সাংসদের সোশাল মিডিয়া পারফরম্যান্সের রিপোর্ট কার্ড। গত ৩ মাসে ওই সাংসদরা বিভিন্ন সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্মে কী পোস্ট করেছেন, ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামে তাঁদের কেমন সক্রিয়তা সেসব ছিল ওই রিপোর্ট কার্ডে। তবে ওই রিপোর্ট কার্ড নিয়ে এদিনের বৈঠকে বিশেষ আলোচনা হয়নি। পুরো সময়টাই প্রধানমন্ত্রী কাটিয়েছেন খোশমেজাজে। প্রত্যেক সাংসদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে তিনি কথা বলেছেন বলে খবর। সায়নী ঘোষ, বাপি হালদার সঙ্গে তাঁর আলাপচারিতার ছবি প্রকাশ্যেও এসেছে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে মুর্শিদাবাদের ৩ সংখ্যালঘু সাংসদও এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে নিজেদের দাবি সম্বলিত একটি চিঠি দিয়ে এসেছেন বলে খবর। ওই চিঠিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আর্জি জানানো হয়েছে। ঠিক যে যে দাবি অমিত শাহর কাছে করা হয়েছিল সেই একই দাবি তাঁরা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছেও। আবু তাহের খান আলাদা করে জানিয়েছেন, নিজের এলাকার রেলপথের দাবি। সাংসদ বাপি হালদার ‘গঙ্গাসাগর’ মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি করেছেন। আবার বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ রায় আর্জি জানিয়েছেন সাংসদদের এমপিল্যাডের টাকায় যে ১৮ শতাংশ জিএসটি কার্যকর করা হয়, সেটা যেন তুলে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর প্রধানমন্ত্রী সবার কথা শুনেছেন। আশ্বাসও দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী এদিন প্রত্যেক সাংসদকে নিজের এলাকায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক একই রকম।যারা ২৪ বছর ধরে এনডিএর সঙ্গে যুক্ত-তাঁরাও যতটা গুরুত্ব পাবেন, যারা একদিন আগে এনডিএ-তে যোগ দিয়েছেন, তাঁরাও সমান গুরুত্ব পাবেন। আমার সঙ্গে সবার সম্পর্ক সমান।