‘বোরখা’ মন্তব্য মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বৃহস্পতিবার এই মামলায় তুমুল ভর্ৎসনার শিকার হন তিনি। শেষমেশ মামলা খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং শিল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “আপনি সংসদের সদস্য? রাজনীতিতে নেমে ডিমে ভয় পাচ্ছেন? আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুক পেতে গুলি খেয়েছেন। এই আবেদনগুলি কোনভাবেই আদালতের বিচার্য হওয়া উচিত নয়।” মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী গোপাল শংকরনারায়ণন আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি চান। তবে ডিভিশন বেঞ্চ আবেদন খারিজ করে দেয়।
বলে রাখা ভালো, এই ঘটনার সূত্রপাত গত জুনে। সেই মাসে ত্রাণসামগ্রী ও ত্রিপল চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। আদালতে পেশের সময় প্রাক্তন মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও শেয়ার করে ক্ষোভ উগড়ে দেন মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। ডিম হামলাকারী বেশ কয়েকজন হিন্দু মহিলার নাম উল্লেখ করে তাঁদের ‘বোরখা পরা’র কথা বলেন। সাংসদের মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। মহুয়ার বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ ওঠে। নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় মহুয়ার বিরুদ্ধে করিমপুর মণ্ডল ৪-এর বিজেপির সাধারণ সম্পাদক হীরক ভট্টাচার্য অভিযোগ দায়ের করেন।
এরপর কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থও হন মহুয়া। হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, পুলিশ আইন অনুযায়ী তদন্ত করবে। সংসদের অধিবেশন মিটলে আগামী ১৪ আগস্ট থানায় গিয়ে হাজিরা দিতে হবে মহুয়াকে। তবে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির হলে পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে যে সাংসদ ডিম হামলার শিকার হবেন না। কিংবা অন্য কোনওভাবে তাঁকে হেনস্তা করা যাবে না। এমনকী এই বিতর্কিত মন্তব্য মামলায় আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত মহুয়ার বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। হাই কোর্টের এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সাংসদ। তুমুল ভর্ৎসনার পর মামলা খারিজ করে দেয় আদালত।