মহারাষ্ট্রে কি মহাজুটিতে ফাটল ধরেছে? সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় সেই আশঙ্কা দেখা গিয়েছে। সদ্য বাঁকিপুরে জয়লাভ করেছেন প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। এরপরই মহারাষ্ট্রে গিয়ে তিনি দেখা করলেন সুনেত্রা পওয়ারের (Sunetra Pawar ) সঙ্গে। যাকে ঘিরে সংশয়ের মেঘ গাঢ় হয়েছে। মহারাষ্ট্রের রাজস্ব মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলের সতর্কবার্তা, ”এমন কোনো পদক্ষেপ করবেন না যা জোটে ফাটল ধরাতে পারে।” বলে রাখা ভালো, মহারাষ্ট্রে রয়েছে মহাজুটির সরকার। সেই জোটে বিজেপির সঙ্গে রয়েছে এনসিপির অজিত শিবির ও শিব সেনার শিণ্ডে শিবির।
জানা গিয়েছে, দক্ষিণ মুম্বইয়ে সুনেত্রার অফিস ভবন ‘দেবগিরি’তেই এসেছিলেন পিকে। সুনেত্রার দলীয় প্রতিনিধি সঞ্জয় খোড়কে একথা জানিয়েছেন। তবে এনসিপি নেতা ওই বৈঠকের কোনও বিস্তারিত বিবরণ দেননি। স্বাভাবিক ভাবেই এরপর থেকে তীব্র হয়েছে জল্পনা। তাহলে কি পিকের সঙ্গে কোনও পরিকল্পনা করে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক শক্তি কাঠামোয় নিজেদের আরও মজবুত করে বেঁধে ফেলতে চাইছে এনসিপি?
কী হবে তা ভবিষ্যৎই বলবে। আপাতত বিজেপি সতর্ক করে দিতে চেয়েছে সুনেত্রাকে। চন্দ্রশেখরকে বলতে শোনা গিয়েছে, ”এটা ওঁদের দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তবে মহাজুটির অংশ হিসেবে এমন কোনও পদক্ষেপ করা উচিত নয়, শরিকদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে বা কোনও দলের ক্ষতি করতে পারে। সবাইকে অবশ্যই মহাজুটির আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। উনি প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে দেখা করেছেন, এতে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু ফাটল তৈরি হতে পারে এমন আচরণ কাম্য নয়।”
২০২৫ সালের নভেম্বরে ২৩৮টি আসনে লড়ে তাঁর দল জন সুরাজ পার্টির প্রার্থীদের জমানত জব্দ হয়েছিল ২৩৬টি আসনেই! সকলেই ধরে নিয়েছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ। কিন্তু ৯ মাস পরে সেই পিকেই চমকে দিলেন বিহারের উপনির্বাচনে! ১৯ হাজার ভোটে জিতেছেন বিজেপির তিন দশকের গড়ে। এরপরই তাঁর মহারাষ্ট্রে গিয়ে সুনেত্রার সঙ্গে সাক্ষাৎ নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। এর আগেও অবশ্য তিনি সুনেত্রার সঙ্গে দেখা করেছেন বলে সুনেত্রার পুত্র ও এনসিপি নেতা পার্থ পওয়ার জানিয়েছেন। সেই সঙ্গেই তাঁর দাবি, প্রশান্ত তাঁদের পরিবারের পরিচিত। কিন্তু তিনি একথা বললেও জল্পনার মেঘ কিন্তু ঘনাতে শুরু করেছে।