• নায়ক হওয়ার নেশায় ঘরছাড়া! ৩৫ বছর পর বাড়ি ফিরলেন ‘মৃত’ যুবক
    প্রতিদিন | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • নায়ক হওয়ার অদ্ভুত নেশা তাড়া করে বেরিয়েছিল ১৬ বছরের এক কিশোরকে। মুম্বই গিয়ে সিনেমায় অভিনয় করবেন ভেবেছিলেন। প্রায় ৩৫ বছর আগে হঠাৎ একদিন বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না। আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীরা ধরে নিয়েছিলেন, ছেলে হয়তো আর বেঁচে নেই। অবশেষে ৩৫ বছর পর ‘মৃত’ ভেবে নেওয়া সেই ছেলে জীবিত অবস্থায় ফিরলেন নিজের ভিটেয়। নদীয়ার থানাপাড়া থানার পিপুলখোলা গ্রামের এই ঘটনায় জোর শোরগোল।

    নদিয়ার থানারপাড়া থানার পিপুলখোলা গ্রামের বাসিন্দা রেন্টু শেখ। গত ৩৫ বছর পর হঠাৎ আবির্ভাবের খবর ছড়াতেই অবাক গোটা গ্রাম। দীর্ঘ সময় পর ঘরের ছেলেকে চিনতে পরিজনদের প্রাথমিকভাবে কিছুটা সমস্যা হয়। তবে কানের একটি বিশেষ ভাঁজ ও পুরনো কিছু স্মৃতির কথা শুনে ছেলেকে চিনতে অসুবিধা হয়নি বৃদ্ধ বাবা উহাব শেখের। রেন্টু জানান, বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে তিনি অসমের গুয়াহাটি চলে যান। সেখানে কাজ করছিলেন। অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়। উপার্জনের তাগিদেই কেটে যায় দীর্ঘ সময়। পর্যাপ্ত যোগাযোগের অভাবে এতদিন বাড়ি ফিরতে পারেননি। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর গ্রামে ফেরেন তিনি।

    ​দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন রেন্টুর পরিজনেরা। কোনও ছবি ছিল না রেন্টুর, তাই সেই সময় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে খোঁজাখুঁজি করা হয় প্রায় সর্বত্র। শুধু বাংলা নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গাতেও খোঁজাখুঁজি করা হয় বলেই জানান রেন্টুর বাবা উহাব শেখ। কোথাও খুঁজে না পেয়ে ছেলে বেঁচে আছে এই আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন পরিজনেরা। সেই হারানো ছেলে সশরীরে সামনে আসায় বিস্মিত তাঁর বাবা।

    রেন্টুর প্রতিবেশী জুবায়ের আহমেদ জানান, “৩৫ বছর পর বাড়িতে ফিরলেও আমার চিনতে ভুল হয়নি। এতদিনে গ্রামের অনেক পরিবর্তন হওয়ায় ও এসে বাড়ি চিনতে পারেনি। এমনকি গ্রামের অনেকেই ওকে অপরিচিত বলে মনে করেছেন। আমি কিন্তু প্রথম সাক্ষাতেই চিনতে পেরেছি। ছোট থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত একসঙ্গে আমরা কাটিয়েছি। খেলাধুলা করেছি। তাই আমার বন্ধুকে চিনতে ভুল হয়নি।” কয়েকমাস পরিবারের লোকজন এবং বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আত্মীয়দের সঙ্গে কাটিয়ে পুনরায় গৌহাটি কাজে ফিরে যাবেন বলে জানায় সে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)