ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের মামলায় তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে সশরীরে হাজিরা দিতে না চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল (কালীঘাটপন্থী) সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর ভয় ছিল, পাছে কেউ ডিম ছোড়ে। কিন্তু শীর্ষ আদালতে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হলো তাঁকে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুরের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় বলে দিল, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন। আপনি সাংসদ হয়ে ডিমে ভয় পাচ্ছেন?’
গত ১ জুলাই নদিয়ার কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদের বাড়িতে তৃণমূলের একটি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মহুয়া। সেই সময়ে বাড়ির নীচে কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। ‘গো ব্যাক স্লোগান’ দেন। এমনকী ডিম ছোড়ার অভিযোগও ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গোটা ঘটনার লাইভ করেন মহুয়া। সেই সময়ে তাঁর বক্তব্যে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর থানায় এফআইআর দায়ের হয়।
সেই মামলার শুনানিতে আগামী ১৪ অগস্ট মহুয়াকে তদন্তকারী আধিকারিকদের সামনে হাজিরার নির্দেশ দেয় আদালত। কিন্তু তৃণমূল সাংসদ দাবি করেন, থানায় গেলে তাঁর উপরে ডিম বা টমেটো ছোড়া হতে পারে। তাই তাঁকে ভার্চুয়ালি হাজিরার অনুমতি দেওয়া হোক। হাইকোর্ট তাঁকে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি কড়া পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারি থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিলেও তদন্তকারী আধিকারিকদের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মহুয়া। এ দিন তাঁর হয়ে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তাঁর আর্জি ছিল, তদন্তে সহযোগিতা করতে মহুয়াকে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হোক।
আদালত পাল্টা প্রশ্ন তোলে, ‘ভার্চুয়ালি কেন? আপনি সাংসদ বলেই?’ জবাবে মহুয়ার আইনজীবী জানান, আদালতে গেলে তাঁর উপরে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষ্ণনগর থানায় যাওয়ার সময়ে তাঁর দিকে ডিম ছোড়াও হয়েছিল। সেই উদাহরণও দেন মহুয়ার আইনজীবী। তখন বিচারপতিরা বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন। আপনি সাংসদ হয়ে ডিমে ভয় পাচ্ছেন?’
এখানেই শেষ নয়। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, এমন দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আসা উচিত হয়নি। পরে যদি অন্য কোনও অভিযোগ থাকে, সুপ্রিম কোর্টে তাঁরা আসতে পারেন। এর পরেই আবেদন প্রত্যাহার করে নেন মহুয়ার আইনজীবী।
প্রশ্ন: মহুয়া মৈত্র কেন সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন?
উত্তর: তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে সশরীরে হাজিরা এড়িয়ে ভার্চুয়াল জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাইতে।
প্রশ্ন: মামলার সূত্রপাত কীভাবে?
উত্তর: কালীগঞ্জে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় করা মন্তব্য ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়।
প্রশ্ন: মহুয়ার যুক্তি কী ছিল?
উত্তর: থানায় গেলে তাঁর উপরে ডিম বা টমেটো ছোড়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রশ্ন: সুপ্রিম কোর্ট কী মন্তব্য করেছে?
উত্তর: বিচারপতিরা বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন, আর একজন সাংসদ ডিমের ভয়ে ভার্চুয়াল হাজিরা চাইছেন।
প্রশ্ন: শেষ পর্যন্ত কী হল?
উত্তর: আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণের পর মহুয়ার আইনজীবী আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেন।