• ‘হকের চাকরি ফিরিয়ে দিন’, ধর্মতলায় অবস্থান-বিক্ষোভে চাকরি হারানো ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা
    এই সময় | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ২০১৬-র এসএসসি-র পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। চাকরি হারিয়েছিলেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ‘যোগ্য’ বলে দাবি। শুক্রবার হারানো চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে অবরোধ-বিক্ষোভে বসলেন তাঁরা। দাবি, OMR শিট বাছাই করে ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের চাকরিতে পুনর্বহাল করুক রাজ্য সরকার।

    চাকরি ফেরানোর দাবিতে এ দিন শিয়ালদহ থেকে মিছিল শুরু করেন ‘যোগ্য’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। ধর্মতলায় পৌঁছে ডোরিনা ক্রসিংয়ে বসে পড়েন তাঁরা। শুরু হয় বিক্ষোভ। রয়েছেন শিক্ষক নেতা সুমন বিশ্বাস, চিন্ময় মণ্ডলরা। তাঁদের দাবি, ২০১৬ সালের ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের অবিলম্বে চাকরি ফেরাতে হবে। দাবি না মেটা পর্যন্ত ধর্মতলা অবরোধ করে থাকবেন তাঁরা।

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুরো প্যানেল বাতিল হলেও ‘যোগ্য’ ও ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের আলাদা করা হয়নি। তাই ওএমআর শিট-সহ সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। তাঁদের হুঁশিয়ারি, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এদিকে ডোরিনা ক্রসিংয়ে অবরোধের জেরে শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।

    ২০২৪-এর এপ্রিলে গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশের গোটা প্যানেলই বাতিল করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। তার ফলে ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়। একই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছিল, যাঁরা এতদিন অবৈধ ভাবে পাওয়া চাকরি করছিলেন, তাঁদের সুদ সমেত বেতনের পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে।

    হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের উপর ২০২৪ সালের ৭ মে স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সেখানেও স্বস্তি মেলেনি। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখে শীর্ষ আদালত। বাতিল হয়ে যায় প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি।

    ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগে চাকরি হারানো ‘যোগ্য’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন।

    ওএমআর শিট ও অন্যান্য নথি যাচাই করে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে চাকরিতে ফিরিয়ে দিতে হবে।

    শিয়ালদহ থেকে মিছিল শুরু করে আন্দোলনকারীরা ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন।

    শিক্ষক নেতা সুমন বিশ্বাস, চিন্ময় মণ্ডল-সহ চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের একাংশ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পর মোট ২৫,৭৫৩ জনের নিয়োগ বাতিল হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টও কার্যত প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

    নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে পুরো প্যানেলই বাতিল করে আদালত।

    সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। ফলে চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকে।

    আন্দোলনকারীদের দাবি, দুর্নীতিতে যুক্তদের সঙ্গে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের এক কাতারে ফেলা হয়েছে। তাই যোগ্যদের পৃথক করে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতেই তাঁদের এই অবস্থান-বিক্ষোভ।

  • Link to this news (এই সময়)