• ‘FCRA বিল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়’, মার্কিন সাংসদের সমালোচনার জবাব কেন্দ্রের
    এই সময় | ০৮ আগস্ট ২০২৬
  • সংসদে পেশ হওয়া ‘ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ (FCRA Bill 2026) নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাইলি মুর (Riley Moore)-এর মন্তব্যের পাল্টা কড়া জবাব দিল ভারত। শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত আইন তৈরি করা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, আমেরিকা-সহ বিশ্বের একাধিক দেশেই বিদেশি অর্থ ও অনুদান নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজস্ব আইন রয়েছে।

    প্রস্তাবিত FCRA সংশোধনী বিল নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন আমেরিকার রিপাবলিকান সাংসদ রাইলি মুর। ৪ অগস্টের একটি বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর হলে ভারত সরকার কোনও সংগঠনের FCRA রেজিস্ট্রেশন বাতিল বা নবীকরণ না হলে সেই সংগঠনের বিদেশি অনুদান এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে।

    মুরের দাবি ছিল, এই সংশোধনী বিশেষ করে গির্জা ও খ্রিস্টান ধর্মীয় সংগঠনগুলির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি প্রস্তাবিত আইনকে বিশেষ ধর্মের উপর আক্রমণ বলে মন্তব্য করেন এবং এর ফলে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন।

    আমেরিকান সাংসদের মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারতে আইন তৈরির জন্য একটি প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ আইনকে সেই সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যেই বিচার করা উচিত।’

    তাঁর কথায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই বিদেশি অনুদান এবং সংগঠনগুলিতে বিদেশি অর্থের ফ্লো নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজস্ব আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। আমেরিকাতেও বিদেশি অর্থ সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণমূলক আইন রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি কার্যত ওয়াশিংটনের সমালোচনার জবাব দেন।

    বর্তমানে ভারতে বিদেশি অনুদান গ্রহণ এবং তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে Foreign Contribution (Regulation) Act, 2010। কোনও NGO, সংগঠন বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে অর্থ পেলে কী ভাবে সেই অর্থ ব্যবহার করা যাবে, তার উপর এই আইনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়। বিদেশি অর্থ যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, জনস্বার্থ বা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেটিও আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    প্রস্তাবিত ২০২৬ সালের সংশোধনীতে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। কোনও সংগঠনের FCRA FCRA লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত হলে, বিদেশি অনুদানে তৈরি সম্পদ পরিচালনার জন্য সরকার একজন 'নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ' নিয়োগ করতে পারবে। প্রস্তাবিত বিলে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বিদেশি অনুদানে তৈরি কোনও সম্পত্তি যদি কোনও উপাসনা স্থান হয়, তবে তার ধর্মীয় চরিত্র ও পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখা কর্তৃপক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক। নিয়ম লঙ্ঘনে নতুন খসড়ায় সর্বোচ্চ শাস্তির মেয়াদ ৫ বছর থেকে কমিয়ে ১ বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিদেশি ফান্ডের স্বচ্ছতা ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বেনামি ফান্ডের রাজনৈতিক বা অসামাজিক কাজে ব্যবহার রোধ করাই এই বিলের মূল উদ্দেশ্য।

    কেন্দ্রের যুক্তি, এর উদ্দেশ্য কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে দখল করা নয়। বরং বিদেশি অনুদানের মাধ্যমে তৈরি সম্পদ যাতে আইনি কাঠামোর বাইরে চলে না যায় এবং সেই সম্পদ যথাযথ ভাবে রক্ষা করাই এই সংশোধনীর লক্ষ্য।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩,৫২০টিরও বেশি সংস্থা ভারতে প্রায় ৫৫,৭৪১ কোটি টাকার বিদেশি অনুদান লাভ করেছে। তবে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়া, আবেদন না করা বা আর্থিক অসঙ্গতির কারণে বহু সংস্থার রেজিস্ট্রেশন রদ করা হয়েছে। ​ভারতের স্পষ্ট বক্তব্য, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থ নিয়ন্ত্রণকারী যে কোনও নীতি নির্ধারণ সম্পূর্ণরূপে দেশের নিজস্ব বিষয়, যেখানে কোনও বহিরাগত দেশের রাজনৈতিক মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

    FCRA Bill 2026 হল Foreign Contribution (Regulation) Act, 2010 সংশোধনের প্রস্তাবিত বিল। এর মাধ্যমে বিদেশি অনুদান গ্রহণ ও সেই অর্থে তৈরি সম্পদের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    মার্কিন রিপাবলিকান সাংসদ রাইলি মুর দাবি করেন, সংশোধনী কার্যকর হলে FCRA রেজিস্ট্রেশন বাতিল বা নবীকরণ না হওয়া সংগঠনের বিদেশি অনুদান ও সেই অর্থে তৈরি সম্পত্তি নিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে। তিনি বিশেষ করে ধর্মীয় সংগঠনগুলির উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতে আইন তৈরি একটি প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়। বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

    ভারতের বক্তব্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই বিদেশি অর্থ ও অনুদানের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজস্ব আইন রয়েছে। আমেরিকাতেও বিদেশি অর্থ সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণমূলক আইন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে বিদেশ মন্ত্রক।

    বিদেশি অনুদান যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, অখণ্ডতা, জনস্বার্থ বা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, তা নিশ্চিত করাই FCRA-র অন্যতম উদ্দেশ্য।

    প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও সংগঠনের FCRA লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত হলে বিদেশি অনুদানে তৈরি সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার একজন নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়োগ করতে পারবে।

    বিদেশি অনুদানে তৈরি কোনও সম্পত্তি যদি উপাসনাস্থল হয়, তা হলে তার ধর্মীয় চরিত্র ও পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখার কথা প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তির মেয়াদ ৫ বছর থেকে কমিয়ে ১ বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩,৫২০টিরও বেশি সংস্থা প্রায় ৫৫,৭৪১ কোটি টাকা বিদেশি অনুদান পেয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)