প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন-মেসেজ করে বিরক্ত করা শুরু। তার পরে নানা কুপ্রস্তাবের অভিযোগ মহিলা অফিসারকে। বীরভূমের সিউড়ি সদর মহকুমার একটি ব্লকের বিডিও-র বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন সংশ্লিষ্ট ব্লকের এক আইসিডিএস সুপারভাইজ়ার। ঘটনা ঘিরে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে জেলায়।
মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে দুবরাজপুর থানায় বিডিওর বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাব, হেনস্থার ধারায় এফআইআর রুজু হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বিডিও-র সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল এই সময় অনলাইন। কিন্তু তাঁর ফোন বেজে গিয়েছে। জবাব দেননি মেসেজেরও। যোগাযোগ করা হয়েছিল বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈনের সঙ্গেও। তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতা বজায় রেখে আইন আইনের পথে চলবে।’
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে নাগাদ থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন ওই মহিলা। সেই সময়ে পুলিশ তাঁর অভিযোগটি জেনারেল ডায়েরি হিসেবে গ্রহণ করে। পরে রাত ১০টা নাগাদ অভিযুক্ত বিডিও-র বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ।
অভিযোগপত্রে ওই মহিলা তাঁর সঙ্গে বিডিও-র হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের স্ক্রিনশটও জুড়ে দিয়েছেন। মহিলার অভিযোগ, ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল সরকারি কাজের অজুহাতে তাঁকে নিজের অফিসে ডেকে পাঠান বিডিও। কিন্তু সেখানে কোনও রকম কাজের কথা হয়নি। উল্টে মহিলার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই টানা কথা বলে গিয়েছেন বিডিও।
মহিলার আরও অভিযোগ, গভীর রাতে বিডিও তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর রোম্যান্টিক গান-মেসেজ পাঠাতেন। ফোন না ধরলে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কর্মজীবনের ক্ষতি করারও হুমকি দিতেন। অপহরণ করে ঝাড়খণ্ডের হোটেলে আটকে রেখে বিডিও যৌন নির্যাতনের হুমকিও দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ মহিলার। অভিযোগকারিণী জানান, তিনি বর্তমানে এন্ডোমেট্রিয়োসিস এবং ওভারিয়ান টিউমারে আক্রান্ত। বিডিও যে ভাবে দিনের পর দিন তাঁর উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছেন, তাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে।
মহিলা তাঁর অভিযোগপত্রটি রাজ্যের ডিজিপি, বীরভূমের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ একাধিক জায়গায় ইমেল করে পাঠিয়েছেন। থানায় অভিযোগ দায়ের করতে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপকুমার সাহা, বিজেপির দুই মণ্ডল সভাপতি দেবজ্যোতি সিং ও শম্ভুনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুপ বলেন, ‘আইন আইনের পথেই চলবে।’