শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গড়ল রাজ্য সরকার
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৮ আগস্ট ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার আসার পর থেকে আগের সরকারের নানা দুর্নীতি খুঁজে বের করছে। এইসব দুর্নীতির জেরে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আর্থিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এই আবহে আরও একটি দুর্নীতির বিষয় সামনে এসেছে। শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (এসজেডিএ) দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলে আসা দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। এলইউসিসি সার্টিফিকেট থেকে এসজেডিএ-র নির্মীয়মান বহুতল বন্টন-সহ নানা বিষয়ে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হতে চলেছে। শিলিগুড়ি এবং শহরতলির বাসিন্দাদের অভিযোগ রয়েছে এই দপ্তরকে কেন্দ্র করে। এই দপ্তর থেকে একটি কাগজ বের করতে হলে টাকা দিতে হতো। আর এই অর্থের বিনিময়েই শহরের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী থেকে জমি মাফিয়াদের অন্যতম আঁতুড়ঘর হিসাবে পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ। এইসব অভিযোগ এবং দুর্নীতি নিয়েই তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।
এবার প্রথম এসজেডিএ-এর বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হলো শিলিগুড়ির মাটিগাড়া এসজেডিএ অফিসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, রাজ্য পরিবহণ ও অর্থ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণ, ফুলবাড়ি বিধানসভার বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়, ফাঁসিদেওয়ার বিধায়ক দুর্গা মুর্মু, রাজগঞ্জের বিধায়ক দীনেশ সরকার-সহ অন্যান্যরা। শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির আধিকারিক এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে তিন ঘন্টার বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে উঠে আসে দপ্তরের একাধিক দুর্নীতির কথা। এলইউসিসি থেকে বহুতল বন্টন নিয়ে নানা দুর্নীতি উঠে আসে আলোচনায় বলে সূত্রের খবর। এবার নতুন করে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হচ্ছে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির উন্নয়নে৷ আর যে সব আধিকারিকরা প্রায় ৩০ বছর ধরে একই অফিসে একই চেয়ারে বসে আছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও তদন্ত হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই দুর্নীতি-সহ নানা বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা গোটা বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট দেবে। এই নিয়ে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপাতত ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নানা জায়গায় কাজ শুরু হচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ে। জলপাইগুড়ি জেলার যে এলাকাগুলি এই দপ্তরের বাইরে আছে, তাদের এসজেডিএ-র আওতাধীন করা যায় কিনা সেটা নিয়ে আলোচনা চলছে। গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের আমলে এসজেডিএ-র আয়-ব্যায়ের হিসেব নিয়ে স্পেশাল অডিট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তাছাড়া আরও একাধিক দুর্নীতির কথা তুলে ধরেছেন মন্ত্রী। যা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শঙ্কর ঘোষের অভিযোগ, ‘আমাদের বোর্ড আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে থার্ড পার্টির মাধ্যমে তদন্ত করা হবে। এসজেডিএ এলইউসিসি প্রদান করে। সেখানেও নানা সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে৷ দেখা যাচ্ছে এলইউসিসির অপব্যবহার করে বেশ কিছু প্রভাবশালী নির্মাণকারী নির্মাণ করেছেন৷ বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্ল্যান ছাড়াই বহুতল গড়ে উঠেছে। কাজেই ইন্টার্নাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ এনকোয়ারি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে এই ইন্টারনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ তদন্ত শুরু হতে চলেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই এই কাজ শুরু হচ্ছে। একশ্রেণীর আমলা এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর যোগসাজশে এই গোটা সিস্টেম ভেঙে পড়েছে। তাদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’