মুষলধারে একটানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত আগ্রা। শুক্রবার সেখানকার রাস্তায় দেখা গেল এক আশ্চর্য দৃশ্য। রাস্তার মাঝ বরাবর তৈরি হয়েছে গভীর এক গহ্বর! আচমকাই ধস নেমে ওই ‘কাণ্ড’ ঘটে গিয়েছে। সমাজবাদী নেতা নীতিন কোহলি এহেন পরিস্থিতিতে তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়লেন। তবে সরাসরি কোনও ক্ষোভ নয়, বলতে গেলে অভিনব ব্যঙ্গের কষাঘাতে চমকে দিলেন। মই নিয়ে নেমে পড়লেন গর্তে! জানালেন, ‘বিকাশ’ খুঁজতে যাচ্ছেন।
আগ্রার কমলানগরে কর্মযোগী কলোনির ঘটনা। রাস্তা জুড়ে পেল্লাই গর্ত দেখে নেমে পড়লেন নীতিন। সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, দু’জন ব্যক্তি মইটি ধরে রেখেছেন আর কোহলি গর্তের ভিতরে নামছেন। সেই গর্তের ভেতর দাঁড়িয়ে তিনি সরকারের উন্নয়নের দাবির প্রতি ব্যঙ্গ করে বলেন, “উন্নয়ন কি এমনই হয়? যেখানেই রাস্তা তৈরি হয়েছে, সেখানেই সব জায়গায় গর্ত।” এছাড়া তিনি আগ্রাকে তার পরিচিত নাম ‘তাজ সিটি’-র পরিবর্তে ‘গড্ডা নগরী’ বলেও অভিহিত করেন।
ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ নাগরিকরাও। অনেকেই বলছেন, ওই গর্ত আসলে ‘নরকের রাস্তা’। খারাপ ভাবে নির্মিত বলেই বৃষ্টির চোটে রাস্তার এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে এমন হাল হল কেন, প্রশ্ন তুলে প্রশাসনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন তাঁরা। আচমকাই রাস্তার এমন ধসে যে কারও কোনও ক্ষতি নেই, সেটা ভেবেই আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এলাকার বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, একই রকম করুণ পরিস্থিতি সদ্যনির্মিত লখনউ-কানপুর এক্সপ্রেসওয়ের। উদ্বোধন হয়েছে কুড়ি দিন আগে। তার মধ্যেই পাঁচবার ধস নেমেছে সেই রাস্তায়। রাস্তার অধিকাংশ অংশ এই মুহূর্তে ব্যবহারের যোগ্য নেই। একটা সংকীর্ণ অংশ দিয়ে যান চলাচল করছে। এদিকে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরুর আগে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের নিচের মাটি থেকে আর্দ্রতা দূর করার জন্যই শক্তিশালী স্ট্যান্ড ফ্যান বসানো হয়েছে। যোগী সরকারকে এই ঘটনায় কাঠগড়ায় তুলে তোপ দেগেছেন অখিলেশ যাদব।