• মহাসাগরের মেঘ এনে বঙ্গে ভারী বৃষ্টি দেবে নিম্নচাপ?
    এই সময় | ০৮ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: দক্ষিণবঙ্গে কি ফের বাড়তে চলেছে বর্ষার দাপট? শুক্রবার সকালে তেমনই সম্ভাবনার কথা শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ও সংলগ্ন বাংলাদেশের উপরে যে ঘূর্ণাবর্তটি অবস্থান করছে, সেটি আজ, শনিবার দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চল ও সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপরে একটি নিম্নচাপে পরিণত হতে চলেছে। আবহবিদদের মতে, এই নিম্নচাপ তৈরি হলে দক্ষিণবঙ্গ-সহ পূর্ব ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়তে পারে। বৃহস্পতির শেষরাত থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আকাশ মেঘলা রয়েছে এবং বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিও শুরু হয়েছে।

    আবহবিদদের নজরে রয়েছে ভারত মহাসাগরের উপরে তৈরি হওয়া বিশাল এক মেঘের সারি। ইনস্যাট-৩ডিএস উপগ্রহের সাম্প্রতিক ইনফ্রা–রেড চিত্রে দেখা গিয়েছে, নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে ভারত মহাসাগরের মাঝামাঝি এলাকা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন বজ্রগর্ভ মেঘে ঢাকা পড়েছে। উজ্জ্বল সাদা রঙের এই মেঘের স্তূপের শীর্ষভাগ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫–১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত উঁচু। আবহবিদরা বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত শক্তিশালী বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি করতে পারে। সাধারণত এমন ঘটনা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু শক্তিশালী হওয়ার পূর্বাভাস হিসেবে ধরা হয়। তবে আবহবিদদের মতে, শুধু বিপুল পরিমাণ মেঘ বা জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি থাকলেই ভারী বৃষ্টি হবে, এমনটা নয়। সেই জলীয় বাষ্পকে সংগঠিত করে বৃষ্টিতে পরিণত করার জন্য একটি সুসংগঠিত নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তের প্রয়োজন হয়। বঙ্গোপসাগরে কি তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে— এখনও পর্যন্ত এমনই ইঙ্গিত আবহবিদদের। যদিও আরব সাগর এখনও শান্তই। ফলে ওই অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর সবচেয়ে সক্রিয় পর্ব এখনও শুরু হয়নি। তবে বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতি দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়িয়েছে।

    বর্তমানে দেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে মূলত মৌসুমি অক্ষরেখা বরাবর সক্রিয় বজ্রগর্ভ মেঘ এবং একাধিক ক্ষুদ্র ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে। মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, ছত্তিসগড়, ওডিশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে গত কয়েক দিন ধরেই মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়ে চলেছে। তবে সেই বৃষ্টির নেপথ্যে বঙ্গোপসাগরে তৈরি কোনও ওয়েদার সিস্টেমের ভূমিকা নেই। তাই বৃষ্টির বিস্তার ও তীব্রতা সীমিত থাকছে এবং দীর্ঘস্থায়ী অতি ভারী বর্ষণের পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে না।

    আবহবিদদের একাংশ মনে করছেন, ভারত মহাসাগরের উপরে জমতে থাকা বিরাট ওই মেঘের স্তূপ ক্রমশ উত্তরে সরে এসে বঙ্গোপসাগরের উপরে কেন্দ্রীভূত হয়ে সেখানে তৈরি নিম্নচাপকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। সে ক্ষেত্রে ওই বিপুল পরিমাণে জলীয় বাষ্প এই ওয়েদার সিস্টেমে ‘জ্বালানি’ হিসেবে কাজ করবে এবং বর্ষা ফের ‘বার্স্ট মোড’ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এর পাশাপাশি আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা আরও একটি বিশেষ পরিস্থিতির উপরেও নজর রাখছেন। ইনস্যাট থ্রিডি–এস–এর উপগ্রহচিত্রে দেখা গিয়েছে, মধ্যভারত থেকে চিনের পূর্ব দিক পর্যন্ত প্রায় সাড়ি তিন হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি মেঘের সারিও বিদ্যমান। কিছুদিন আগে এমনই একটি মেঘের সারি প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ হয়ে কোরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

    সব মিলিয়ে আবহবিদরা বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জলীয় বাষ্পে পরিপূর্ণ কিন্তু এখনও ট্রিগারবিহীন’ বলে মনে করছেন। অর্থাৎ বৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার কোনও অভাব নেই, কিন্তু সেটিকে বৃষ্টিতে রূপান্তরিত করার মতো নির্দিষ্ট ওয়েদার সিস্টেম এখনও সম্পূর্ণ ভাবে গড়ে ওঠেনি। দক্ষিণবঙ্গের হাত ধরেই হয়তো সেই বদল আসতে চলেছে।

  • Link to this news (এই সময়)