এই সময়: দূরপাল্লার ট্রেনের এসি কোচে রিজ়ার্ভেশন এগেনস্ট ক্যানসেলেশন (আরএসি) টিকিটে যাত্রা করা যাত্রীদের জন্য স্বস্তির ঘোষণা রেলের। এ বার থেকে এসি চেয়ার কার ছাড়া সব ধরনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে সব আরএসি যাত্রীকে কনফার্মড টিকিটধারীদের মতোই পৃথক ও সম্পূর্ণ বেডরোল কিট দিতে হবে। একই বার্থ ভাগ করে যাত্রা করলেও কোনও আরএসি যাত্রীকে আর সহযাত্রীর সঙ্গে কম্বল বা বিছানার চাদর শেয়ার করতে হবে না। রেল বোর্ডের এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য দেশের সব জ়োনকে নির্দেশ দিয়েছে রেল মন্ত্রক।
গত ৪ অগস্ট জারি করা এক চিঠিতে রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের প্রায় প্রতিটি রেলওয়ে জ়োন থেকেই আরএসি যাত্রীদের বেডরোল না পাওয়া বা অসম্পূর্ণ বেডরোল দেওয়ার অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। একটি বার্থে থাকা দুই আরএসি যাত্রীকে একটি মাত্র বেডরোল কিট ভাগ করে ব্যবহার করতে হয়েছে — এমন নজিরও বহু রয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের অস্বস্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বহু যাত্রী এই ব্যবস্থাকে অস্বাস্থ্যকর, অসুবিধাজনক এবং নিরাপদ নয় বলে অভিযোগ জানিয়েছেন।
রেল জানাচ্ছে, বর্তমানে চালু নিয়ম অনুযায়ী আরএসি টিকিটধারীরা ট্রেনে ওঠার অধিকারী, কিন্তু তাঁদের হাতে কনফার্মড টিকিট না থাকায় তাঁরা আলাদা বার্থ পান না — দু’জন যাত্রীকে একটি বার্থ ভাগ করে যাত্রা করতে হয়। যদিও তাঁদের যে পরিমাণে ভাড়া দিতে হয়, কনফার্মড টিকিটের যাত্রীরাও সেই একই পরিমাণে ভাড়া দেন। তবে পূর্ণ ভাড়া দেওয়া সত্ত্বেও এতদিন আরএসি–র যাত্রীরা কনফার্মড টিকিটধারীদের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা পেতেন না। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, প্রত্যেক আরএসি যাত্রীকে পৃথক বেডরোল কিট দিতে হবে। এই কিটে সাধারণত কম্বল, দুটি বিছানার চাদর, একটি বালিশ এবং একটি বালিশের কভার থাকে।
রেল বোর্ড সব জ়োনকেই নির্দেশ দিয়েছে, ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই), অনবোর্ড কর্মী এবং হাউসকিপিং কর্মীরা যেন এই নির্দেশ কঠোর ভাবে কার্যকর করেন। কোনও যাত্রী যাতে বেডরোলের অভাবে সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়েও বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রাপথে কোনও আরএসি যাত্রী নির্ধারিত বেডরোল কিট না পেলে প্রথমে টিটিই-র সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাতেও সমস্যার সমাধান না হলে রেলের ‘রেল মদদ’ পরিষেবা অথবা ১৩৯ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে। নতুন ব্যবস্থার ফলে এসি কোচে আরএসি যাত্রীদের যাত্রা আরও আরামদায়ক, স্বাস্থ্যসম্মত এবং যাত্রীবান্ধব হবে বলে আশা করছে রেল।