লখনউ: ৪২০০ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হয়েছিল ঝাঁ চকচকে কানপুর-লখনউ এক্সপ্রেসওয়ে। উদ্বোধন করেছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গাদকারি এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কিন্তু গত ২৬ জুলাই, উদ্বোধনের ২ সপ্তাহের মধ্যেই সেই রাস্তার বেহাল চিত্র সামনে এসেছিল। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সেই পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন হয়েছে। এক্সপ্রেসওয়ের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলি নতুন করে খুঁড়ে তা মেরামত করতে হচ্ছে। এমনকি বর্ষায় ভিজে থাকা সেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলিতে হওয়া ‘প্যাচওয়ার্ক’ শুকোতে ব্যবহার করা হচ্ছে পেডেস্টাল ফ্যান! এমনই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এই আবহে কার্যত মুখ লুকোতেই এক্সপ্রেসওয়ের টোল নেওয়া বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি (এনএএইচএআই)।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সাফাই, ভারী বৃষ্টির কারণেই পেভমেন্টের নীচের মাটির স্তরে জল জমে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকদিন আগেই মেরামত করা হয়েছিল এমন অংশও নতুন করে ভেঙে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, রাস্তায় ‘প্যাচওয়ার্কে’র কাজের পাশে সার দিয়ে দাঁড় করানো রয়েছে একাধিক পেডেস্টাল ফ্যান। ফুল স্পিডে চলছে যেগুলি। যাতে ‘প্যাচওয়ার্ক’ দ্রুত শুকোনো যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি কংগ্রেস। এক্স হ্যান্ডলে রাহুল গান্ধীর দল লিখেছে, ‘মোদিজির দুর্নীতি ফ্যান দিয়ে শুকানো হচ্ছে। জনতার ৪২০০ কোটি টাকা ব্যবহার করে এই নিম্নমানের রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। জনতার টাকা নয়ছয়ের জন্য মোদিজির নেতৃত্বে দুর্নীতিচক্র চলছে।’ বিষয়টিকে বিজেপি স্টাইলের উন্নয়নের নতুন হাওয়া বলে কটাক্ষ করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও।
রাস্তা মেরামতির জেরে এক্সপ্রেসওয়ের একটি লেন দিয়েই এখন দ্বিমুখী যান চলাচল করছে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। চালকদের প্রশ্ন, টোল দেওয়ার পরেও কেন এমন বেহাল রাস্তায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হবে? এই পরিস্থিতিতে লখনউ থেকে উন্নাও পর্যন্ত টোল নেওয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। এক্সপ্রেসওয়েটির নির্মাণ সংস্থা পিএনসি ইনফ্রাটেককে ইতিমধ্যেই ‘নন পারফর্মিং’ বলে ঘোষণা করেছে সরকার। শাস্তি হিসাবে এই ৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ের সমস্ত অংশই নিজেদের খরচে মেরামত করে দিতে হবে ওই ঠিকাদারি সংস্থাকে। এনএএইচএআইয়ের আঞ্চলিক আধিকারিক (পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ) গৌতম বিশাল সহ বেশ কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইআইটি খড়গপুরকে দিয়ে গোটা রাস্তার সার্ভে করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনএএইচএআই।