পালা বদলের পর দেখা মেলে না করণদিঘির তৃণমূল নেতা গৌতমের, আড়ালে প্রাক্তন সভাধিপতি পম্পা পালও!
বর্তমান | ০৮ আগস্ট ২০২৬
কাজল মণ্ডল, ইসলামপুর: সংবাদদাতা, ইসলামপুর: করণদিঘির দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক গৌতম পাল ও তাঁর স্ত্রী উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি পম্পা পাল এলাকা থেকে কার্যত গায়েব! করণদিঘির ত্রিসীমানায় তাঁদের আর দেখা যাচ্ছে না। এতে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। গৌতম এক সময় ইটাহার থেকে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে করণদিঘিতে থিতু হয়েছিলেন। নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর স্ত্রীকেও রাজনীতির ময়দানে নামিয়ে ছিলেন। ইটাহার, হেমতাবাদ হয়ে করণদিঘি এমনকী রায়গঞ্জেও গৌতমের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর থেকে সেই গৌতমই এখন ‘ডুমুরের ফুল’। রাজনৈতিক মহলের আলোচনা, ভোটগণনা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসার সময় একদল মানুষ তাকে ঘিরে স্লোগান দিয়েছিল। পরদিন গৌতম প্রভাবিত একটি ক্লাব ঘর থেকে প্রচুর পরিমাণে ত্রাণের ত্রিপল উদ্ধার হয়। প্রশাসন তা বাজেয়াপ্ত করে। পরপর দু’টি ঘটনাতেই গৌতমের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, মানুষের ক্ষোভের মুখ থেকে রেহাই পেতেই এলাকায় ঢুকছেন না গৌতম ও তাঁর স্ত্রী পম্পা। পম্পা নিজে জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। ক্ষমতায় থাকাকালীন গৌতমের ভয়ে বাঘে-গোরুতে একঘাটে জল খেত। তাঁর নির্দেশ ছাড়া দলের অন্দরে কোনো কাজ হত না বলেও চর্চা ছিল। কিন্তু ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই তাঁদের এমন পরিণতি হবে তা অনেকে ভাবতে পারেনি। গৌতম বলেন, বর্তমানে রাজনীতি থেকে একটু দূরে থাকছি। তাই কোনো মন্তব্য করব না। পম্পা বলেন, এখন ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত আছি। রাজনীতি থেকে দূরে আছি। গৌতম ঘনিষ্ঠ এক প্রাক্তন তৃণমূল নেতা বলেন, গৌতমদা মাঝেমাঝেই রাতের দিকে করণদিঘিতে আসেন। ফোন করে সবার খোঁজখবরও নেন।
বিজেপির ডালখোলা টাউন মণ্ডল কমিটির সভাপতি গৌতম দে ওরফে বাবু বলেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে গৌতম পাল সস্ত্রীক গায়েব হয়ে গিয়েছেন। তাঁর আমলে দুর্নীতি চরম সীমায় পৌঁছেছিল। জনগণকে শুধু ভাঁওতা দিয়েছেন। এতে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। সেই ভয়ে তাঁরা এলাকায় ঢুকছেন না।