• ‘স্যর, ঠিকানাটা বলবেন? ঘড়ি পাঠাব’, এই মেসেজেই মেলে NEET-UG প্রশ্নফাঁসের ক্লু, CBI চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর তথ্য
    এই সময় | ০৮ আগস্ট ২০২৬
  • ‘স্যর, আপনার ঠিকানাটা একটু জানাবেন? একটা ঘড়ি উপহার পাঠাব।’ রসায়নের অধ্যাপক পিভি কুলকার্নিকে এমনই একটি মেসেজ পাঠিয়েছিলেন এক ছাত্রের অভিভাবক। আপাতদৃষ্টিতে খুবই সাধারণ। কিন্তু এখান থেকে NEET-UG প্রশ্নফাঁসের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ‘ক্লু’ হাতে পায় সিবিআই।

    শুক্রবার নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় ৯৪ পাতার চার্জশিট দিয়েছে সিবিআই। ১৩ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে তাতে। কী ভাবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র সঙ্গে যুক্ত এই আধিকারিকেরা দিনের পর দিন প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন, কেমন ছিল তাঁদের কাজের ধরন, কী পদ্ধতিতে গোটা চক্র চলত—চার্জশিটে তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সেখানেই উঠে এসেছে এই তথ্য।

    তার পর থেকেই থেকেই কুলকার্নির গতিবিধির উপরে কড়া নজর রাখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। তাঁর আবাসনের বাসিন্দাদের ঢোকা-বেরনোর তথ্য রাখার জন্য ‘মাইগেট’ নামে একটি অ্যাপ ব্যবহার করা হয়। সেই অ্যাপের রেকর্ড বা লগও খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি ‘Fifa world cup’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কথোপকথনও পরীক্ষা করে দেখেন তাঁরা।

    এই দুই সূত্রের সাহায্যেই প্রশ্নপত্র কিনেছিলেন এমন কয়েক জন পড়ুয়ার হদিশ পান তদন্তকারীরা। পরে তাঁদের সূত্র ধরে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের কাছেও পৌঁছে যায় সিবিআই। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, মাইগেট অ্যাপের লগ ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, অভিযুক্ত কুলকার্নির ফ্ল্যাটে পড়ুয়াদের যাতায়াত ছিল।

    NTA-র সাবজেক্ট এক্সপার্ট হিসেবে রসায়নের প্রশ্ন তৈরির দায়িত্বে ছিলেন কুলকার্নি। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর ৩ মে পরীক্ষা বাতিল করা হয়। পরে ২১ জুন ফের পরীক্ষা নেওয়া হয়। সিবিআইয়ের দাবি, প্রশ্ন তৈরির সময় কুলকার্নি ও অন্য অভিযুক্তরা তা মুখস্থ করে রাখতেন। পরে হোটেলে গিয়ে লিখে রাখতেন প্রশ্নগুলি। এর পরে তা অন্য অভিযুক্তদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হতো।

    চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, কুলকার্নির হাতে লেখা নোটের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়া গিয়েছে। তাঁর মোবাইল ফোনেও পরীক্ষার আগে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের ছবি পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। ফোনে রসায়নের প্রশ্নপত্রের ন’টি ছবি এবং NEET-UG-এর প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে যায় এমন উত্তরপত্রও ছিল। পড়ুয়া, অভিভাবক এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া যায় ওই ফোনে।

    সিবিআই জানিয়েছে, ২৫ এপ্রিল কুলকার্নি ‘special class’-এর নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিলেন। অভিযোগ, বিশেষ ক্লাসে পড়ানোর নাম করে অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হতো। কখনও কুলকার্নি নিজে টাকা নিতেন, আবার কখনও টাকা নিতেন তাঁর সহযোগী মনীষা ওয়াঘমার। টাকার বিনিময়ে পড়ুয়াদের হাতে প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।

    শুধু রসায়ন নয়, পড়ুয়াদের জন্য পদার্থবিদ্যার প্রশ্নপত্রও জোগাড়ের চেষ্টাও করেছিলেন কুলকার্নি। তবে সেই প্রশ্নও আগেই ফাঁস হয়ে যায়। এই কাণ্ডে অভিযোগের আঙুল উঠেছে আর এক অধ্যাপক মনীষা হাওলদারের বিরুদ্ধে। তিনিও NTA-র প্রশ্নপ্রত্র তৈরির প্যানেলে ছিলেন। ইংরেজি থেকে মারাঠি এবং মারাঠি থেকে ইংরেজিতে প্রশ্নপত্র অনুবাদের দায়িত্বও ছিল তাঁর। সিবিআইয়ের দাবি, তিনি ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে পদার্থবিদ্যার প্রশ্নফাঁস করেছিলেন।

    তদন্তে জানা গিয়েছে, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র রাজস্থানেও পৌঁছে গিয়েছিল। পরীক্ষার চার দিন আগে ১১ সেট প্রশ্নপত্র একটি কালো Hyundai Verna গাড়িতে করে ঝুনঝুনুতে নিয়ে যাওয়া হয়। সিকার-ভিত্তিক মঙ্গলীলাল বিভাল ও দীনেশ বিভাল এই চক্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলে অভিযোগন। তাঁদের কাছে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং জীববিদ্যার ছাপানো কপি উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। প্রশ্নফাঁসের চক্র যে একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে ছিল, তদন্তে তারই ইঙ্গিত মিলেছে।

    প্রশ্ন: NEET-UG প্রশ্নফাঁস মামলায় CBI কত পাতার চার্জশিট দিয়েছে?

    উত্তর: CBI মোট ৯৪ পাতার চার্জশিট দিয়েছে। তাতে ১৩ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে।

    প্রশ্ন: কুলকার্নির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?

    উত্তর: CBI-এর অভিযোগ, NTA-র সাবজেক্ট এক্সপার্ট হিসেবে প্রশ্ন তৈরির সময় কুলকার্নি প্রশ্নগুলি মুখস্থ করে রাখতেন। পরে সেগুলি লিখে অন্যদের হাতে তুলে দেওয়া হত। টাকার বিনিময়ে পড়ুয়াদের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ।

    প্রশ্ন: কুলকার্নির বিরুদ্ধে তদন্তের সূত্র কী ভাবে মিলেছিল?

    উত্তর: এক ছাত্রের অভিভাবক তাঁকে ঘড়ি উপহার দেওয়ার কথা বলে ঠিকানা চেয়ে WhatsApp-এ মেসেজ করেছিলেন। সেই মেসেজ থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে MyGate অ্যাপের লগ এবং WhatsApp গ্রুপের তথ্য খতিয়ে দেখা হয়।

    প্রশ্ন: কুলকার্নির মোবাইলে কী পাওয়া গিয়েছিল?

    উত্তর: চার্জশিট অনুযায়ী, তাঁর মোবাইলে পরীক্ষার আগে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের ছবি ছিল। এর মধ্যে রসায়নের প্রশ্নপত্রের ন’টি ছবি এবং NEET-UG-এর প্রশ্নের সঙ্গে মিলে যায় এমন উত্তরপত্রও ছিল বলে দাবি CBI-এর।

    প্রশ্ন: ‘Special class’ কী ছিল?

    উত্তর: CBI-এর অভিযোগ, কুলকার্নি ‘Special class’ নামে একটি WhatsApp গ্রুপ তৈরি করেছিলেন। বিশেষ ক্লাসের কথা বলে অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত এবং সেই টাকার বিনিময়ে পড়ুয়াদের ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল।

    প্রশ্ন: মনীষা হাওলদারের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?

    উত্তর: তিনি NTA-র প্রশ্নপ্রণেতাদের প্যানেলে ছিলেন। CBI-এর দাবি, ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি পদার্থবিদ্যার প্রশ্ন ফাঁস করেছিলেন।

    প্রশ্ন: প্রশ্নফাঁসের ঘটনা কি শুধু একটি রাজ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল?

    উত্তর: না। তদন্তে রাজস্থানেও ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পৌঁছে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সিকার এলাকার দুই ব্যক্তির কাছ থেকে তিনটি বিষয়ের প্রশ্নের ছাপানো কপি উদ্ধারের কথাও চার্জশিটে বলা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)