এই সময়, ময়নাগুড়ি: হাতে তৈরি চা পাতা আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছনোর উদ্যোগ নিল ভারতীয় টি বোর্ড। টি বোর্ডের উদ্যোগে চলতি মাসের ১৭-১৮ তারিখ দিল্লিতে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। দিল্লির ডিএলএফ শপিং মলে এর প্রদর্শনী হবে। উত্তরবঙ্গ থেকে পাঁচজন এই প্রদর্শনীতে অংশ নেবেন৷ তার মধ্যে জলপাইগুড়ি জেলার তিনজন, কোচবিহার জেলার একজন এবং দার্জিলিং জেলার একজন। জলপাইগুড়ি থেকে ময়নাগুড়ি জামতলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দীপ্তি রায়, জলপাইগুড়ি নতুন বস্তির ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সুধাংশু সরকার এবং রুকরুকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দেবাশিস রায় দিল্লি যাচ্ছেন। কোচবিহারের জামালদহের দ্বারিকামারি ফার্মার প্রোডাক্ট কমিটির রতন রায় এবং দার্জিলিংয়ের মিনারেল স্প্রিং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নবীন তামাংও এদের সঙ্গী হচ্ছেন। হাতে তৈরি চা পাতা অত্যন্ত সুগন্ধী এবং সুস্বাদু।
এই চায়ের বাজার মূল্য দুই থেকে শুরু করে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত। বাগান থেকে সদ্য অঙ্কুরিত হওয়া পাতা তুলে সেগুলি গরম তাওয়ায় সামান্য ভেজে নিয়ে হাতে পিষে পাতা তৈরি করা হয়। টি বোর্ডের জলপাইগুড়ির অধিকর্তা নিপুন বোড়া বলেন, ‘ওই দু’দিন দিল্লিতে একটা চায়ের এক্সপো আছে। এই বিশেষ তৈরি পাতা যাতে বাজারে আরও বেশি বিক্রি করা যায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারও ধরতে পারে তার জন্যই এই উদ্যোগ। বিশ্ব বাজারে চায়ের ব্যপক চাহিদা রয়েছে।’
উত্তরবঙ্গ ক্ষুদ্র চা চাষি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘এমনিতে চিরাচরিত চা তৈরি হচ্ছেই। যাঁরা হাতে পাতা তৈরি করেন তাঁদের চা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে যদি বেশি করে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয় তাহলে এই চা প্রস্তুতকারকরা আর্থিকভাবে অনেক বেশি উপকৃত হবেন।’ জামতলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দীপ্তি রায় বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে হাতে পাতা তৈরি করছেন। আমাদের এই পাতা দেশের বিভিন্ন বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রচারের সূযোগ করে দেওয়ার জন্য টি বোর্ডের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’