• এক বছর ধরে বাড়িতেই পড়ে ছিল কঙ্কাল! স্বামী-সন্তানহারা মহিলার মৃত্যুর খবর টের পেল না কেউ
    এই সময় | ০৮ আগস্ট ২০২৬
  • নিজের বাড়ি। চারপাশে জনবসতি, আশপাশে প্রতিবেশীদের আনাগোনা। সেই বাড়ির ভিতরেই প্রায় এক বছর ধরে নিঃশব্দে পড়ে ছিল দাক্ষায়িনী (৫২) নামে এক মহিলার দেহ। দেহের মাংস-চামড়া খসে গিয়েছে। পড়ে রয়েছে শুধু কঙ্কাল। শুক্রবার বেঙ্গালুরুর বাগালাগুন্তে এলাকার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগালাগুন্তের হাভানুর লেআউটের একটি ডুপ্লে বাড়িতে একাই থাকতেন দাক্ষায়িনী। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, প্রায় এক বছর আগেই মৃত্যু হয় তাঁর। কিন্তু সেই খবর কেউ জানতে পারেননি এত দিন। বাড়ির ভিতর থেকে তাঁর কঙ্কাল উদ্ধারের পর সামনে এসেছে একাকিত্বে মোড়া জীবনের করুণ পরিণতির ছবি।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দাক্ষায়িনীর জীবনে পরের পর নেমে এসেছিল শোক। প্রায় ১০ বছর আগে তাঁর স্বামী উমেশের মৃত্যু হয়। এর পরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁদের ছেলেও। স্বামী এবং সন্তান—দু’জনকেই হারানোর পরে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন দাক্ষায়িনী। শেষ পর্যন্ত বাড়িতে একাই দিন কাটছিল তাঁর।

    পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগ ছিল না দাক্ষায়িনীর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তাঁর মেয়ে-জামাইও দীর্ঘ দিন আসেননি। ফলে বাড়ির ভিতরে মৃত্যু হলেও তা নজরে আসেনি কারও। দরজা বন্ধ ছিল। ঘরের ভিতরেই পড়ে থেকেছে তাঁর মৃতদেহ। কী ভাবে মৃত্যু হয়েছিল দাক্ষায়িনীর? স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? আপাতত সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

    বাড়ি থেকে পচা গন্ধ বেরোতে দেখে পুলিশে খবর দিয়েছিলেন প্রতিবেশীরা। তার পরেই উদ্ধার হয় দাক্ষায়িনীর কঙ্কাল। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ফরেন্সিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে।

    প্রায় এক বছর আগে মৃত্যু হলে এত দিন ধরে কী ভাবে বিষয়টি কারও নজরে এল না, সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি শেষ দিনগুলিতে কারও সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না, তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থাই বা কেমন ছিল—সেই সব তথ্যও সংগ্রহ করছে পুলিশ।

    প্রশ্ন: দাক্ষায়িনী কোথায় থাকতেন?

    উত্তর: বেঙ্গালুরুর বাগালাগুন্তের হাভানুর লেআউটের একটি ডুপ্লে বাড়িতে একাই থাকতেন তিনি।

    প্রশ্ন: কত দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে পুলিশের অনুমান?

    উত্তর: প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রায় এক বছর আগে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

    প্রশ্ন: কী ভাবে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এল?

    উত্তর: বাড়ি থেকে পচা গন্ধ বেরোতে দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। এরপর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দাক্ষায়িনীর কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

    প্রশ্ন: দাক্ষায়িনীর পরিবারের কী হয়েছিল?

    উত্তর: প্রায় ১০ বছর আগে তাঁর স্বামী উমেশের মৃত্যু হয়। পরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তাঁদের ছেলেরও মৃত্যু হয়।

    প্রশ্ন: মৃত্যুর কারণ কি জানা গিয়েছে?

    উত্তর: এখনও নয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও ফরেন্সিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    প্রশ্ন: পুলিশ কী নিয়ে তদন্ত করছে?

    উত্তর: প্রায় এক বছর আগে মৃত্যু হয়ে থাকলে এত দিন বিষয়টি কেন কারও নজরে এল না, শেষ দিনগুলিতে দাক্ষায়িনী কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না এবং তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতি কী ছিল—এসবই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)