নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের পরে প্রথমবার জনসমক্ষে বক্তব্য পেশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেটাও আইআইটি দিল্লির ৫৭ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের সামনে। শনিবার প্রায় হাজার তিনেক জ়েনজ়ি পড়ুয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক প্রজন্মেরই রাষ্ট্রের প্রতি কিছু দায়িত্ব থাকে।’ প্রশ্ন করার পাশাপাশি, তার উত্তর খোঁজার সাহস থাকতে হবে বলেও মন্তব্য করেন মোদী।
ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের পরে ইনস্টাগ্রামে ভিডিয়ো পোস্ট করে জেনজ়ি-দের বার্তা দিয়েছিলেন মোদী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদেরও সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হতে বলেছিলেন। সেই ঘটনার পরে এ দিন তরুণ প্রজন্মের সামনে সরাসরি বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে পরীক্ষার সিলেবাসের সঙ্গে জীবনকে মিলিয়ে দেন মোদী। বলে দিলেন, ‘প্রশ্ন করা ভালো, তবে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সাহসও রাখতে হবে।’ ক্যাম্পাসের বাইরের জীবন অন্য রকম। সেখানকার পরীক্ষাও ভিন্ন। মোদীর কথায়, ‘জীবনের লড়াইয়ে কোনও প্রশ্নপত্র থাকে না।’
প্রযুক্তি, শিল্প, পেশা এমনকী আন্তর্জাতিক রাজনীতিও ক্রমশ বদলে যাচ্ছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘আগামী ২০ বা ৩০ বছর পরে কী হবে, নির্ভুল ভাবে অনুমান করা সম্ভব নয়।’ কিন্তু সেই সময়েও একটা জিনিস গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। মোদীর কথায়, ‘সেটা হলো শেখার ক্ষমতা। যাঁরা শিখবেন, তাঁরাই সফল হবেন।’
ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। একসময় দেশে সেমিকন্ডাক্টর তৈরি সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে এখন দেশের প্রথম সেমিকন্ডাক্টর ইউনিটে উৎপাদন শুরু হয়েছে। মোদীর কথায়, ‘আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি, চিপ থেকে জাহাজ—সবই আপনাদের হাত ধরে দেশে তৈরি হবে।’ জটিল বা বড় কোনও সমস্যা দেখে ভয় না পাওয়ার পরামর্শও দেন মোদী। তাঁর মতে, কোনও সমস্যা বড় মনে হলে সেটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিতে হবে। মোদীর কথায়, ‘জীবনে সমস্যা আসবেই। তবে সেই সমস্যার মধ্যেই নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সতর্ক থাকতে হবে। রাখতে হবে নতুন সমাধান খুঁজে বের করার মানসিকতা।’
এ দিন আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স চালিত সুপার কম্পিউটার ‘পরম প্রজ্ঞা’র উদ্বোধন করেন মোদী। প্রায় ৫৮৭ জন পিএইচডি ‘স্কলারের’ হাতে তুলে দেন শংসাপত্র। পাশাপাশি আইআইটি দিল্লির ঐতিহ্যবাহী ও সর্বোচ্চ সম্মান ‘প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল’, ‘ডিরেক্টর্স গোল্ড মেডেল’, ‘শঙ্করদয়াল শর্মা গোল্ড মেডেল’ এবং ‘পারফেক্ট টেন গোল্ড মেডেল’-সহ বিভিন্ন পুরস্কার কৃতী পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেন মোদী।
প্রশ্ন: কোথায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী?
উত্তর: শনিবার আইআইটি দিল্লির ৫৭তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রশ্ন: পড়ুয়াদের কী বার্তা দিয়েছেন মোদী?
উত্তর: কৌতূহল ধরে রাখা, প্রশ্ন করা এবং সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার সাহস রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
প্রশ্ন: ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী?
উত্তর: প্রযুক্তি, শিল্প, পেশা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাই আগামী ২০-৩০ বছর পৃথিবী কেমন হবে, তা নির্ভুল ভাবে অনুমান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রশ্ন: সাফল্যের জন্য কোন বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন মোদী?
উত্তর: তাঁর মতে, দ্রুত বদলে যাওয়া বিশ্বেও ‘শেখার ক্ষমতা’ গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। যাঁরা নিয়মিত শিখবেন, তাঁরাই সফল হবেন।
প্রশ্ন: বড় সমস্যা নিয়ে কী পরামর্শ দিয়েছেন?
উত্তর: বড় কোনও সমস্যা দেখে ভয় না পেয়ে সেটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে সমাধানের চেষ্টা করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রশ্ন: সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে কী বলেছেন মোদী?
উত্তর: ভারতের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ‘চিপ থেকে জাহাজ’—সবই দেশে তৈরি হবে।
প্রশ্ন: সমাবর্তনে আর কী কর্মসূচি ছিল?
উত্তর: AI-চালিত সুপার কম্পিউটার ‘পরম প্রজ্ঞা’র উদ্বোধন করেন মোদী। ৫৮৭ জন পিএইচডি স্কলারকে শংসাপত্র দেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃতী পড়ুয়াদের বিভিন্ন গোল্ড মেডেল ও সম্মান প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।