জমি দখল থেকে অবৈধ বহুতল, ১৫ বছরের সব ফাইল খুলবে সরকার! শিলিগুড়িতে বড় তদন্ত
আজ তক | ০৮ আগস্ট ২০২৬
Siliguri Latest News: দীর্ঘ ১৫ বছর। জমেছে একের পর এক অভিযোগ। কোথাও জমি দখলের অভিযোগ। আবার কোথাও নিয়ম না মেনে বহুতল নির্মাণের প্রশ্ন। এবার সেই সব পুরনো অভিযোগেরই তদন্তের সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি সরকার। শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা এসজেডিএ-র কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হতে চলেছে। সরকার বদলের পর এসজেডিএ-র প্রথম বোর্ড বৈঠকেই এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় এসজেডিএ-র দফতরে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, পরিবহণ ও অর্থ দফতরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, ফাঁসিদেওয়ার বিধায়ক দুর্গা মুর্মু, ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং রাজগঞ্জের বিধায়ক দীনেশ সরকার। ছিলেন এসজেডিএ-র আধিকারিক এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও।
বৈঠকে এসজেডিএ-র একাধিক প্রকল্প এবং গত কয়েক বছরের কাজকর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিশেষ করে জমি, নির্মাণ এবং অনুমোদন সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলির সত্যতা এবং তার পিছনে কারা রয়েছেন, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।
এলইউসিসি নিয়ে কী অভিযোগ?
এসজেডিএ-র এলইউসিসি অর্থাৎ ল্যান্ড ইউজ কনভার্সন সার্টিফিকেট নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে। মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের দাবি, এই শংসাপত্রের অপব্যবহার করে কিছু নির্মাণকারী নিয়মবহির্ভূত ভাবে নির্মাণকাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কোথাও কোথাও অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়াই বহুতল তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়াও ইকো সেনসিটিভ জোন সংক্রান্ত নিয়ম কী ভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। এই সমস্ত অভিযোগের নেপথ্যে আসল ঘটনা কী, তা জানতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে অনিয়মের জন্য দায়ী করা যাবে না। অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তেই নির্ধারিত হবে।
কাওয়াখালির বহুতল বণ্টন নিয়ে তদন্ত
শুধু এলইউসিসি নয়, কাওয়াখালিতে এসজেডিএ-র নির্মীয়মাণ বহুতল বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে তৈরি ওই আবাসন লটারির মাধ্যমে বণ্টন করার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াতেও অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।
এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত তৃতীয় কোনও সংস্থার মাধ্যমে করানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন শঙ্কর ঘোষ। ফলে এসজেডিএ-র জমি, নির্মাণ এবং পুনর্বাসন প্রকল্প; সব ক্ষেত্রেই নজরদারি বাড়ছে।
১৫ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসেবের অডিট
এসজেডিএ-র কাজকর্মের পাশাপাশি গত ১৫ বছরের আর্থিক হিসাবও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আয় এবং ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিশেষ অডিট করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একই দফতর বা একই পদে থাকা আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও পর্যালোচনা করা হবে। তাঁদের দায়িত্ব পালন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ নয়, এসজেডিএ-র গত কয়েক বছরের সামগ্রিক কাজকর্মই এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ির উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা
অভিযোগ ও তদন্তের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়েও বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন সরকারের তরফে শিলিগুড়ি এবং জলপাইগুড়িতে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি জলপাইগুড়ির আরও কিছু এলাকা এসজেডিএ-র আওতায় আনা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ফলে এক দিকে পুরনো কাজের হিসাব খতিয়ে দেখা, অন্য দিকে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প; দুই দিকেই নজর দিতে চাইছে প্রশাসন।
‘প্রভাবশালীদের জন্য আলাদা সুবিধা নয়’
তদন্ত নিয়ে শঙ্কর ঘোষের বক্তব্য, কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মহলের জন্য আলাদা সুবিধা রাখা হবে না। ইচ্ছাকৃত ভাবে কেউ অনিয়মে মদত দিয়ে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের চিহ্নিত করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এখন মূল নজর তদন্তের দিকেই। গত ১৫ বছরে এসজেডিএ-র কাজকর্ম নিয়ে ওঠা অভিযোগের কতটা সত্যি, কোথায় নিয়ম ভাঙা হয়েছিল এবং এর পিছনে কারও ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার ঘটনা ছিল কি না; সেই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে।