নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক গ্রেপ্তার, তোলাবাজি-জমি দখল-সহ বিস্তর অভিযোগের জের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৮ আগস্ট ২০২৬
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। আর তার জেরে একের পর এক গ্রেপ্তার হতে শুরু করে। সেখানে তোলাবাজি, হুমকি, মারধর, প্রতারণা, জমি দখল এবং দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। এবার এমনই সব অভিযোগে পুলিশের জালে এলেন নৈহাটির প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে। তোলাবাজি, অন্যের জমি ভয় দেখিয়ে দখল করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ককে। শনিবার সকালে দত্তপুকুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিনই তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।
দত্তপুকুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে শনিবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয় সনৎ দে’কে। তারপর নিয়ে আসা হয়েছে নৈহাটিতে। বহুদিন ধরেই তোলাবাজির অভিযোগ ছিল নৈহাটির প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে-র বিরুদ্ধে। একাধিক জমি দখল করার অভিযোগ রয়েছে এই প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগও রয়েছে সনৎ দে’র বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগেই নৈহাটি থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে-কে। শনিবার তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হবে। একইসঙ্গে জানানো হবে আদালাতে জমি দখলের কথাও বলে সূত্রের খবর।
পুলিশ সূত্রে খবর, নৈহাটি এলাকায় সনৎ দে-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং অভিযোগের পাহাড় জমেছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই নানা অপকর্ম করে আসছেন তিনি বলে অভিযোগ রয়েছে। বেনামে তোলা আদায় থেকে শুরু করে ভয় দেখিয়ে অন্যের ভিটে-জমি দখল করা রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী একাধিক হিংসার ঘটনার পিছনেও তাঁর সরাসরি মদত ছিল বলে অভিযোগ। নৈহাটি থানায় তাঁর নামে পর পর একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে নৈহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন সনৎ দে। তবে ক্ষমতায় এসেই নানা খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে যান।
তাছাড়া রাজ্যে পালাবদলের পরই জনরোষের মুখে পড়েছিলেন সনৎ দে। গত জুন মাসে নৈহাটিতে পার্টি অফিসে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হয়েছিল। দেওয়া হয়েছিল চোর চোর স্লোগান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নৈহাটি জুড়ে সনৎ দে কার্যত সন্ত্রাস চালাতেন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগেও তিনি হুমকি দিয়েছিলেন নানা মানুষজনকে। কদিন আগে পুলিশ সনৎ দে-র বাড়ি এবং ওষুধের দোকানে তল্লাশি চালায়। তখন অবশ্য তাঁর হদিশ পাওয়া যায়নি। এবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আত্মগোপন করেছিলেন সনৎ দে। তাঁকে গ্রেপ্তার করে নৈহাটি থানায় নিয়ে আসা হয়।