ইসলামপুরে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত প্রধানশিক্ষক, শুটআউটে আলোড়ন এলাকায়
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৮ আগস্ট ২০২৬
আবার শুটআউটে কেঁপে উঠল ইসলামপুর। এবার দুষ্কৃতীদের নিশানায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। শনিবার সকালে ইসলামপুরের শীবনগড় এলাকায় ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে গুলি করে খুন করা হয় ওই শিক্ষককে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। ইসলামপুরের মাদারিপুর এলাকায় প্রবল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রামগঞ্জের রাজাভিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ওই ঘটনায় প্রবল আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এলাকার মানুষজনের মধ্যে। মৃত শিক্ষক তৃণমূলের শিক্ষা সেলের নেতা ছিলেন বলে সূত্রের খবর। সুতরাং এই খুনের পিছনে রাজনীতি আছে বলে অনেকে মনে করছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত শিক্ষকের নাম নজরুল ইসলাম(৫৫)। ইসলামপুরের আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। অন্যদিনের মতোই শনিবারও বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার জন্য বেড়িয়েছিলেন শিক্ষক নজরুল ইসলাম। কিন্তু স্কুলে পৌঁছনোর আগেই রাস্তাতে প্রকাশ্য দিবালোকেই কিছু দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তারপর গুলিবিদ্ধ শিক্ষককে গুরুতর জখম অবস্থায় দেখে সেখানে জড়ো হয়ে যায় স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটি দেখে শিউরে ওঠেন তাঁরা। এলাকায় পরিচিত এই প্রধানশিক্ষককে কেন এমনভাবে খুন করা হলো? তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শিক্ষক নজরুল ইসলাম এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। কারণ তিনি খুব ভাল পড়াতেন। আর মানুষের উপকার করতেন এলাকায়। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের যে কোনও সমস্যায় পাশে এসে দাঁড়াতেন। বহু ছাত্রছা্ত্রী তাঁকে ভালবাসতেন। সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তড়িঘড়ি করে ইসলামপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় শিক্ষক নজরুল ইসলামকে। স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছতেই তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়। পরে পরিবারের লোকজন শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক নজরুল ইসলামকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তাছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা ইসলামপুর থানায় খবর দিয়েছিলেন। পুলিশ এসে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। নিহত শিক্ষকের পরিবার সূত্রে খবর, এদিন স্কুল ছুটির পরে নজরুলের গ্রামের বাড়ি চোপড়ার সোনাপুরে যাওয়ার কথা ছিল। দুই আততায়ী মোটরবাইকে চেপে এসেছিল। স্কুল যাওয়ার সময়ই গুলি করে খুন করে তাঁকে। এই ঘটনায় কে বা কারা জড়িত সেটা এখনও পুলিশ জানতে পারেনি। এই খুনের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ইসলামপুর থানার পুলিশ। পুরনো কোনও শত্রুতা নাকি অন্য কোনও কারণে প্রধানশিক্ষকের উপরে এভাবে হামলা চালানো হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। আর খতিয়ে দেখা হচ্ছে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ।