বিদেশি অনুদান বিল নিয়ে উত্তাল সংসদ, আগামী সপ্তাহে এফসিআরএ নিয়ে জবাব দিতে পারেন শাহ
প্রতিদিন | ০৮ আগস্ট ২০২৬
আগামী সপ্তাহে লোকসভায় আলোচনার জন্য পেশ হতে চলেছে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এফসিআরএ সংশোধনী বিল (FCRA Bill)। সরকারি সূত্রে খবর, আগামী বুধবার লোকসভায় বিলটির উপর জবাবি ভাষণ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর। বিলটি পাশ করাতে যে সরকার বদ্ধপরিকর, সেই ইঙ্গিত এদিনের ঘটনাক্রম থেকেই স্পষ্ট। এফসিআরএ বিল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে এক মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের সমালোচনাকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্র। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানান, ভারতের আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ। তিনি আরও বলেন, শুধু ভারত নয়, আমেরিকা-সহ বহু দেশই বিদেশি অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ করে।
সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাইলি মুর দাবি করেছিলেন, প্রস্তাবিত এফসিআরএ সংশোধনী বিল গির্জা ও খ্রিস্টান ধর্মীয় সংস্থাগুলির উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণের পথ খুলে দিতে পারে। তাঁর অভিযোগ, এটি খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত এবং ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। এর জবাবে ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত আইন দেশের সার্বভৌম অধিকার ও অভ্যন্তরীণ নীতির অংশ। সংসদই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং বাইরের কারও মন্তব্যে সেই প্রক্রিয়ার কোনও প্রভাব পড়বে না।
বিরোধীরা লাগাতার দাবি তুলছেন, অমিত শাহকে সংসদে আসতে হবে। তাই বিরোধীদের পালটা জবাব দিতে তিনি নিজেই মাঠে নামবেন, সেই ইঙ্গিত মিলেছে ইতিমধ্যে। শুক্রবার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু লোকসভায় দাবি করেন, অধিবেশন চলাকালীন শাহ প্রতিদিনই সকাল থেকে পুরো সময় সংসদের অন্দরেই থাকেন। প্রয়োজনে তিনি অধিবেশন কক্ষে এসে কড়া জবাব দিতে পারেন, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন রিজিজু।
এদিকে, বিল নিয়ে প্রস্তুতি তুঙ্গে। এদিনও বিদেশমন্ত্রী জয়শংকরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শাহ। বিগত কয়েকদিন ধরে লাগাতার ক্যাথলিক চার্চ থেকে শুরু করে এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন অংশীদারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। আবার বিলটির বিরোধিতা করার জন্য বিরোধী শিবিরও এককাট্টা। কংগ্রেস হুইপ জারি করে আগামী সপ্তাহে ১০, ১১ এবং ১২ আগস্ট – তিনদিন দলের সমস্ত সাংসদকে হাজির থাকতে বলেছে। এদিন সকালে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জোটে থাকা বাকি বিরোধী দলের সমস্ত সাংসদরা যাতে ওই তিনদিন সংসদে হাজির থাকেন, সেই অনুরোধও করেছে। এই নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যেই লোকসভায় সরকারি বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য কর ছাড় সংক্রান্ত সংশোধনী পাশ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে ভারতীয় সরকারি বন্ডে বিনিয়োগকারী বিদেশিরা সুদ ও মূলধনী লাভের উপর আয়কর ছাড় পাবেন।