• দিল্লিকে ‘পণবন্দি’ করে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি কেন? কেন্দ্রকে প্রশ্ন হাই কোর্টের
    প্রতিদিন | ০৮ আগস্ট ২০২৬
  • যন্তর মন্তরে কোনও বিক্ষোভ করা উচিত নয়। শুক্রবার এই পর্যবেক্ষণ করেছে দিল্লি হাই কোর্ট (Delhi High Court)। আদালত বলেছে, শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন অকারণে ‘পুরো শহরকে পণবন্দি করে রাখে’। তবে, ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে এই ধরনের সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকার ও পুলিশের।

    বিচারপতি অমিত মহাজনের বেঞ্চ যোগ করেছে যে, সরকারকেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের এক্তিয়ার ভুক্ত। সম্প্রতি মাসাধিককাল যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ করে ককরোচ জনতা পার্টি। দলিত খ্রিস্টানদের তফসিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত করার দাবির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য ১০ আগস্ট যন্তর মন্তরে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ করার অনুমতি দিতে দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে মামলা করেছিল ‘অল ইন্ডিয়া দলিত ক্রিশ্চিয়ান রাইটস প্রোটেকশন কমিটি’।

    সেই মামলার প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রকে ওই প্রশ্নটি কেন্দ্রকে করে হাই কোর্ট। কেন্দ্র অবশ্য জানিয়েছে, এই সংক্রান্ত একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। শীর্ষ আদালত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার সংক্রান্ত একটি মামলা শুনছে। হাই কোর্ট সবটা শোনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার পুলিশ প্রশাসনের উপর ছেড়েছে।

    ১৭২৪ সালে স্থাপিত হয় যন্তর মন্তর। যন্তর মন্তর আসলে জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দির। কিন্তু আজ তা বিক্ষোভের স্থল হিসেবেই প্রসিদ্ধ। কবে থেকে শুরু হল এই বিষয়টি? এর জন্য ফিরে যেতে হবে ১৯৯৩ সালে। সেবছর সংসদের কাছাকাছি এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। আর তার ফলেই নাগরিকদের প্রতিবাদের অধিকার ও শহরের নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে যন্তর মন্তর রোডকে প্রতিবাদের কেন্দ্রীয় স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। রাজধানীতে যে কোনও ধরনের জনসভা বা প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য যন্তর মন্তর একটি সহজে প্রবেশযোগ্য স্থান হিসেবেই রয়ে গিয়েছে সেই থেকে। এই মুহূর্তে যন্তর মন্তরে চলতে থাকা সিজেপির দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান কর্মসূচির মতো কর্মসূচির ক্ষেত্রে কোলাহল ও যানজটের সমস্যা সৃষ্টি হয়। তবু প্রশাসনের কাছে নিজেদের কথা পৌঁছে দিতে চাওয়া নাগরিকদের কাছে এই স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)