• শব্দ দূষণে মসজিদে মাইকে ‘না’, শুভেন্দুর কাছে অভিযোগ আবু-খলিলুরের, ‘সম্প্রীতি’র বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
    প্রতিদিন | ০৮ আগস্ট ২০২৬
  • বৃহস্পতিবার দিল্লিতে শাহি দরবার। দু’দিন যেতে না যেতেই এবার শুভেন্দু সাক্ষাতেও মসজিদ থেকে মাইক খুলে দেওয়ার অভিযোগ এনসিপিআইয়ের সংখ্যালঘু সাংসদদের। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবু তাহের খান জানান, “মসজিদ থেকে মাইক কেন খোলা হচ্ছে, সেই বিষয়টা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছে।’ এ কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের ‘সম্প্রীতি’র আশ্বাসও দিয়েছেন বলে জানান আবু তাহের। তাঁর কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমরা চাই সর্ব ধর্ম সমন্বয় হোক, সম্প্রীতি বজায় থাক।’

    এদিন সাংবাদিক বৈঠকে আবু তাহের খানের বক্তব্য, “এরাজ্যে প্রায় সাড়ে ৩৮০০ হাজার মাইক খোলা হয়েছে। ১২০০ মন্দির থেকেও মাইক নামানো হয়েছে। সরকারের কাছে আবেদন করেছি এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে। ধর্মীয় স্থানে মাইক বা লাউডস্পিকার বাজানো নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এবং হাই কোর্টের যে গাইড লাইন আছে, তা মেনেই চলব। যেন মানুষের কোনও অসুবিধা না হয়।” এনসিপিআই সাংসদ আরও বলেন, “আমরা জানিয়েছি, শুধুমাত্র মুসলিমদের যেন টার্গেট না করা হয়। সব ধর্মের জন্য এক আইন হোক। আমরা চাই সর্ব ধর্ম সমন্বয় হোক, সম্প্রীতি বজায় থাক। মুখ্যমন্ত্রীও আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়েছেন। যাকে মসজিদ থেকে আর মাইক খোলা না হয়, সেই বিষয়টিও দেখবেন বলে জানিয়েছেন।”

    পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে আবু তাহের জানান, “কোনও সরকারি নির্দেশিকা ছাড়া পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে মসজিদ থেকে মাইক খুলে নিতে বাধ্য করেছে। যদি মাইক খুলে নিতেই হয়,তাহলে সময় দেওয়া উচিত ছিল। পুলিশ তা করেনি। বরং অতিরঞ্জিত আচরণ করেছে। পুলিশের আচরণ বেদনাদায়ক।” 

    শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পুরনো নির্দেশিকা মেনেই রাজ্যে একের পর এক মসজিদ থেকে খোলার বিষয় উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দরবার করেন বাংলার তিন এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান, ইউসুফ পাঠানরা। দু’দিন পর শুভেন্দুর সঙ্গে অভিযোগ করেও একই অভিযোগ জানান দুই সাংসদ। অন্যদিকে গতকালই মসজিদের মাইক খোলার প্রসঙ্গে হাই কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঋতশিবির। এখন দেখার হাই কোর্টের দরজায় বিতর্কের জল গড়ালে, কোনদিকে মোড় নেয় এই প্রসঙ্গ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)