নিম্ন আদালতে ভুল ফরেন্সিক রিপোর্ট পেশ করেছিল পুলিশ। তার মাশুল গুনতে হলো দুই ভাইকে! খুনের মামলায় ১৪ বছর ধরে তাঁরা জেল খাটার পরে অবশেষে সেই ভুল ধরা পড়ল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে। তাঁদের বিরুদ্ধে আর কোনও পোক্ত তথ্যপ্রমাণ না থাকায় দু’জনেরই যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা বাতিল করে তাঁদের মুক্তি দিয়েছে উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতিরা জানিয়ে দেন, এই মামলায় মারাত্মক গাফিলতি হয়েছে।
২০০৯ সালের ২৫ অগস্ট রাতে মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলায় পেয়ারেলাল গাদারিয়া নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে, তুলসীরাম রাজপাল ও হরপ্রসাদ রাজপাল নামে দুই ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। তাঁর পেটে ছুরিও মারা হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে পেয়ারেলালের মৃত্যু হয় বলে দাবি করে পুলিশ। ২০১২ সালে এই মামলায় দামোহর বিশেষ সেশন আদালত দুই ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
নিম্ন আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে গিয়েছিলেন তুলসীরাম এবং হরপ্রসাদ। এত বছর পরে মামলার সমস্ত নথি খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিচারপতি বিবেক আগরওয়াল এবং বিচারপতি অবনীন্দ্র কুমার সিং দেখতে পান, নিম্ন আদালতে যে ফরেন্সিক রিপোর্ট পেশ করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ অন্য একটি মামলার। শুধু তা-ই নয়, মামলার এফআইআর-ও তদন্তকারী অফিসার নিজে লেখেননি। তিনি নিজেই তা আদালতে জানান। এ-ও জানান, যিনি এই এফআইআর লিখেছেন, সেই পুলিশ অফিসারকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি!
এ সব দেখেই উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘আমরা সত্যিই অবাক হয়ে যাচ্ছি, কী ভাবে ট্রায়াল কোর্টে এ রকম গাফিলতি ঘটে গেল! বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, বিচারপ্রক্রিয়ার কোনও ধাপেই এই সব ভুলত্রুটি উত্থাপিত হয়নি। রায়ও ঠিক করে লেখা হয়নি। শুধুমাত্র এই কারণেই নিম্ন আদালতের রায় বাতিল হতে পারে।’
এই মামলায় চিকিৎসকও আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছেন, পেয়ারেলালকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মন্তব্য করে, হাসপাতালে আনার আগেই যদি পেয়ারেলালের মৃত্যু হয়ে থাকে, তবে তিনি কী ভাবে অভিযোগ দায়ের করলেন। বিচারপতিদের অনুমান, সম্ভবত পেয়ারেলালের পরিবারের কোনও সদস্য অভিযোগ দায়ের করেন প্রথমে। পরে কোনও এক পুলিশকর্মী কাগজে আঙুলের ছাপ নিয়ে এফআইআর সাজান। তার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মন্তব্য করেছে, ‘তদন্তে বড়সড় ত্রুটি এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় মারাত্মক গাফিলতির কারণে নিম্ন আদালতের রায় এবং সাজা বহাল রাখা সম্ভব নয়।’