চুঁচুড়ার রাস্তায় ফের বড়সড় ধস। দীর্ঘদিন ধরে পিপুলপাতি থেকে বকুলতলা রোডে কেএমডিএ পাইপলাইন বসানোর কাজ করছে। এরই মধ্যে বৃষ্টি। শনিবার আচমকাই সেই রাস্তার একটা অংশে ধস নামে। গৃহবন্দি এলাকার বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগ। কেএমডিএ-র কাজে নিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদারকে স্পষ্ট বার্তা দেন,মানুষের ভোগান্তি এই সরকার বরদাস্ত করবে না। দ্রুত কাজ শেষ না করলে ব্ল্যাক লিস্টেড করে দেওয়া হবে বলে কড়া বার্তা দেন বিধায়ক। এর আগে গত জানুয়ারিতেই ধস নামে এই রাস্তায়। সেই সময়েও এই একই অভিযোগ উঠেছিল।
চুঁচুড়া পুরসভার একাধিক রাস্তাঘাট বেহাল। এর মধ্যে রয়েছে পিপুলপাতি থেকে বকুলতলা রোড পর্যন্ত রাস্তাও। যা পুরসভার ১২ এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এটি। মহকুমাশাসকের বাংলো, কলেজ, স্কুল থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অফিস এই রাস্তাতেই। রাস্তার ধারে একাধিক আবাসনও রয়েছে। অথচ এই রাস্তাতেই দিনের পর দিন পাইপলাইনের কাজ চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
হঠাৎ করে এ দিন রাস্তায় ধস নামায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁরা বাড়ি থেকে বেরোতে পারছেন না। তাঁদের অভিযোগ, একে রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে, তার উপরে ধস। এমনকী রাতে পাইপলাইনের কাজ চলার সময়ে বাড়িঘর কাঁপছে। আতঙ্কে ঘুমোতে পারছেন না তাঁরা। এ নিয়ে ঠিকাদার সংস্থাকে জানালেও বাসিন্দাদের কোনও কথাতেই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগ বলেন, ‘যেখানে বালি দিয়ে গর্ত বুজিয়ে দেওয়ার কথা, সেখানে মাটি দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে ধস নামছে। ঠিকাদার সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারকে জানানো হয়েছে। তাদের জন্য মানুষের কাছে আমরা কথা শুনতে পারব না। প্রশাসককেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। মানুষের যাতে অসুবিধা না হয়, কেএমডিএ-কে দ্রুত কাজ করতে বলা হয়েছে।’
যদিও ঠিকাদার সংস্থার তরফে দাবি, এখানে মাটির সমস্যা রয়েছে। প্রথমে যে পরিকল্পনা করে কাজ শুরু হয়েছিল, পরে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয়। তাই একটু সময় লাগছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি কাজ শেষ হবে।