দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে অবশেষে পর্যটকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী শান্তিনিকেতন গৃহের দরজা খুলে দিলেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চলতি মাসে উদয়ন, উদিচি, কোণার্ক, শ্যামলী এবং পুনশ্চ— পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শনিবার বাইশে শ্রাবণের অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেছেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।
‘শান্তিনিকেতন গৃহ’ থেকেই এই এলাকার নাম হয়েছে শান্তিনিকেতন। রায়পুরের জমিদার প্রতাপ নারায়ণ সিংহের দলিল থেকে জানা যায়, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতন আশ্রম প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই এই গৃহ এখানে রয়েছে। উপাসনা গৃহ প্রতিষ্ঠার আগে এই শান্তিনিকেতন গৃহেই ব্রহ্ম উপাসনা হত ৷ এমনকী, ১৮৯৫ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সপরিবার এই গৃহে বসবাস করতেন ৷
বাইশে শ্রাবণ কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো চলতি বছরেও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিল বিশ্বভারতীতে। ভোরের বৈতালিক, বিশেষ উপাসনা, রবীন্দ্রসঙ্গীত, বৈদিক মন্ত্রপাঠ এবং উদয়নগৃহে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করা হয় এ দিন। এ ছাড়াও, আগামীকাল, রবিবার প্রথা মেনে বিশ্বভারতীতে আয়োজিত হবে ঐতিহ্যবাহী হলকর্ষণ অনুষ্ঠান।
বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী শান্তিনিকেতন গৃহ পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও উদয়ন, উদিচি, কোণার্ক, শ্যামলী এবং পুনশ্চ গৃহও শীঘ্রই পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব জায়গা ঘুরে দেখার জন্য পর্যটকদের আলাদা করে কোনো গাইডের প্রয়োজন হবে না। ভ্রমণার্থীদের সুবিধার জন্য অডিয়ো গাইডেন্স ব্যবস্থা এবং লিখিত তথ্যের সুন্দর আয়োজন থাকছে।’
বিশ্বভারতীর উপাচার্য আরও জানিয়েছেন, হেরিটেজ ওয়াক, মিউজ়িয়াম এবং কবিগুরুর বাড়িগুলি পরিদর্শনের জন্য আপাতত পৃথক টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে পর্যটকদের সুবিধার্থে একটি কম্বো-টিকিটের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বভারতীর সমস্ত জায়গা পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন পর্যটকরা।
এ ছাড়াও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে আরও জানানো হয়েছে, কোভিডের সময় থেকে হাসপাতাল ‘এন্ড্রুজ়’ বন্ধ ছিল। শীঘ্রই সেটিকেও খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়াও, বিশ্বভারতীর গোশালা খুলে দেওয়া হবে সাধারণের জন্য। সেখানেই রাখা হবে ভবঘুরে গোরগুলিকে। ওই গোশালায় গোরুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থাও রয়েছে।
গোশালা চালুর ফলে পাঠভবনের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির ঘাটতি অনেকটাই মিটবে বলে আশাবাদী বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে শ্রীনিকেতন ডেয়ারি থেকে যে দুধ পাওয়া যায়, তা শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। নবনির্মিত গোশালার দুধ সরাসরি পাঠভবনের শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে, যা দুধের ঘাটতি পূরণে বিশেষ ভূমিকা নেবে।