• ‘যা আমার নয়, সেই জিনিসে লোভ করাও অন্যায়...’, কুড়িয়ে পাওয়া লক্ষাধিক টাকা ফিরিয়ে বললেন অস্থায়ী হোমগার্ড
    এই সময় | ০৯ আগস্ট ২০২৬
  • রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া লক্ষাধিক টাকা ফেরালেন বর্ধমানের এক অস্থায়ী হোমগার্ড। ডিউটিতে যাওয়ার পথে রাস্তায় পড়ে থাকা একটি ব্যাগ দেখতে পান সেহারাবাজার ট্রাফিক গার্ডে কর্মরত টেম্পোরারি হোমগার্ড সৌমেন সোম। ব্যাগ খুলে তিনি দেখতে পান, ভিতরে রয়েছে প্রচুর নগদ টাকা। এর পরেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগটি পলেমপুর পুলিশ ফাঁড়িতে জমা দেন তিনি। পরে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে খোঁজ মেলে ব্যাগের মালিকের। তাঁকে ফেরানো হয় টাকা।

    পুলিশের তদন্তে জানা যায়, টাকার ব্যাগটি মেমারির দেবীপুর এলাকার মুড়ি মিল ব্যবসায়ী নিমাই করের। দেবীপুর থেকে দক্ষিণ দামোদর এলাকার একটি রাইস মিলে মুড়ি তৈরির জন্য চাল কিনতে আসার সময়ে তাঁর কাছে থাকা ওই টাকার ব্যাগটি কোন ভাবে হারিয়ে যায়।

    ৫ অগস্ট সকালে সেহারাবাজার ট্রাফিক গার্ড অফিস সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ডিউটিতে যাওয়ার সময়ে রাস্তায় একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন সৌমেন সোম। সেই ব্যাগ খুলতেই চোখ কপালে ওঠে তাঁর। ভিতরে ছিল নগদ ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। যদিও তখনও হিসেবটা স্পষ্ট হয়নি। তবে প্রচুর ক্যাশ ছিল ব্যাগে। ব্যাগটি নিয়ে সরাসরি হাজির হন পলেমপুর পুলিশ ফাঁড়িতে এবং পুরো টাকা তুলে দেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের হাতে।

    এ দিকে টাকা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে মেমারির দেবীপুর এলাকার মুড়ি মিল ব্যবসায়ী নিমাই কর পালসিট পুলিশ ফাঁড়িতে বিষয়টি জানান। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেবীপুর থেকে দক্ষিণ দামোদর এলাকার একটি রাইস মিলে মুড়ি তৈরির জন্য চাল কিনতে যাচ্ছিলেন নিমাই। সেই সময়ে তাঁর কাছে থাকা টাকার ব্যাগটি কোনও ভাবে হারিয়ে যায়।

    এ দিকে সৌমেনের কাছ থেকে পাওয়া টাকার ব্যাগ পেয়ে ব্যাগের মালিকের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। খতিয়ে দেখে বোঝা যায় এই ব্যাগ নিমাই করের। এর পরে শনিবার বিকেলে পলেমপুর পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া সম্পূর্ণ টাকা প্রকৃত মালিক নিমাই করের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পরে নিজের হারানো টাকা ফিরে পেয়ে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি ওই ব্যবসায়ী।

    নিমাই কর বলেন, ‘এখনও সৌমেনদের মতো মানুষ আছেন বলে সততা শব্দটা বেঁচে রয়েছে। আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। সৌমেনকে অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ অন্যদিকে, সৌমেন সোমের বক্তব্য, ‘যা আমার নয়, সেই জিনিসে লোভ করাও অন্যায়। টাকা ভর্তি ব্যাগটা পেয়ে আমি সোজা পলেমপুর ফাঁড়িতে জমা দিয়েছি। এর পরে স্যররাই যা করার করেছেন।’

    সৌমেনের এই সততার প্রশংসা করেছেন পুলিশ আধিকারিকরাও। বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অভিষেক মণ্ডল জানান, ওই হোমগার্ডকে পুরস্কৃত করার জন্য তাঁর নাম সুপারিশ করা হবে। সৌমেনের সততা প্রশংসনীয়।

  • Link to this news (এই সময়)