মহিলা সংরক্ষণ বিলে রাহুল-রিজিজু ‘ডুয়েল’! আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে তরজায় শাসক-বিরোধী
প্রতিদিন | ০৯ আগস্ট ২০২৬
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় কার্যত ডুয়েল লড়লেন শাসক ও বিরোধী দলের দুই নেতা। একজন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, অন্যজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে রাহুলের এক ভিডিওর জবাব দিতে গিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজিজু। পালটা রাহুলের প্রশ্ন, ২০২৩ সালে পাশ হওয়া আইন কেন কার্যকর করেনি কেন্দ্র? কেন তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস?
সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় এক ভিডিওবার্তা দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। যেখানে তিনি বলেন, ‘ভারতের নারীদের শক্তি ও ক্ষমতা আটকে রাখা হয়েছে, তাঁদের মন খুলে চিন্তা করতে বা তা প্রকাশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমার মনে হয়, কোনও দেশ সফল হতে পারে না যদি না সেই দেশের নারীরা নিজেদের প্রকাশ করার সুযোগ পান।’ পুরুষতন্ত্র ও সমাজের বেড়াজালের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হন তিনি। রাহুলের সেই ভিডিও বার্তা সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করে মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লেখেন, ‘কংগ্রেসের তরফে এই বার্তা ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে রাহুল গান্ধীর মানসিকতায় কিছু পরিবর্তন হয়েছে।’ এর সঙ্গেই রিজিজু লেখেন, ‘তাহলে আমরা আশা করব নিঃশর্তভাবে কংগ্রেস এখন মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন করবে।’ তবে রিজিজুর এহেন বার্তার পালটা জবাব দিতে বেশি সময় নেননি রাহুল গান্ধী।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে তোপ দেগে রাহুল লেখেন, ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল ২০২৩ অনেক আগেই কংগ্রেস-সহ সর্বসম্মতিতে পাশ হয়েছে, আপনার চেয়ে ভালো এ বিষয়ে আর কেউ জনে না। কিন্তু প্রশ্ন হল, তিন বছর কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত কেন এই আইন কার্যকর হয়নি এবং কেন এটাকে ডিলিমিটেশনের সঙ্গে জুড়ে দিতে চাইছেন? ২০২৩ সালে যে বিল পাশ হয়ে আইনে পরিণত হয়েছে তা অবিলম্বে কার্যকর করারও দাবি করেন রাহুল গান্ধী।
উল্লেখ্য, আসন পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণ বিলকে একত্রে যুক্ত করে পাশ করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরব কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। বিরোধীদের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হয়ে তা আইনে পরিণত হয়েছে। ফলে সেটিকে কার্যকর করে সংসদীয় আসনসংখ্যার ভিত্তিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করা হোক। তবে কেন্দ্রের তফে বলা হয়েছে, সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ৩৩ শতাংশ মহিলা কোটা পুরোপুরি রূপায়িত করতে ‘ডিলিমিটেশন’ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা প্রয়োজন।