• এবার ঘরে ঘরে ‘রানি লক্ষ্মীবাঈ’! ছাত্রীদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ মিলবে সরকারি স্কুলেই
    প্রতিদিন | ০৯ আগস্ট ২০২৬
  • অভয়াকাণ্ড থেকে কালিয়াগঞ্জ নাবালিকার উপর পাশবিক নির্যাতন। বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের কাণ্ড নিয়ে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। একের পর এক নারকীয় ঘটনা সাক্ষী এ রাজ্য। এবার নারী নিরাপত্তায় বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। বাংলার মেয়েরা নিজেরাই নিজেদের ঢাল হয়ে উঠবে এবার! আত্মরক্ষায় স্ব-নির্ভরতার পাঠ দেবে রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিই। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের আত্মরক্ষার এবার স্কুলেই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই রাজ্য সরকারের ‘রানি লক্ষ্মীবাঈ আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ’ শুরু হবে স্কুলে স্কুলে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আত্মরক্ষায় কী করণীয়, তা হাতে-কলমে শেখানো হবে ছাত্রীদের।

    স্কুলে ছাত্রীদের নিরাপত্তা, যে কোনও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে নিজেদের রক্ষা করার কৌশল শেখাতেই এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “রাজ্যের ১৫ হাজার ২১১ স্কুলে ‘রানি লক্ষ্মীবাঈ আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ’ শুরু হবে। যার জন্য ৭ কোটি ৬০ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের সেল্ফ ডিফেন্সের ক্লাস দেওয়া হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকার প্রথম দিন থেকেই নারী নিরাপত্তায় বিশেষ জোর দিয়ে এসেছে। রাস্তাঘাটে মহিলাদের নিরাপত্তায় পুলিশের ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ রয়েছে। তৎক্ষণাৎ অভিযোগ জানানোর জন্য হেল্পলাইন নম্বরও আছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত ছাত্রীরা থাকলে, তাদের সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই।” সরকার ও সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে ছাত্রীদের আত্মরক্ষা পাঠ নিয়ে প্রশাসনকেও বিশেষ দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জগন্নাথ। উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর কথায়, “আমরা অ্যাডভাইসারি দিয়েছি, সব কলেজের প্রিন্সিপাল, টিচার ইনচার্জ, উপাচার্যদের বলা হয়েছে মাসে একটি করে বৈঠক করতে হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও প্রশাসনিক কর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।”

    এ প্রসঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, “মহিলাদের নিরাপত্তার কথা আগের সরকার ভাবেনি। ভাবলে অভয়া কাণ্ড, কালিয়াগঞ্জের মতো ঘটনা ঘটত না। আমাদের সরকার নারীপত্তায় বিশেষ জোর দিয়ে এসেছে প্রথম দিন থেকে। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশের দুর্গাবাহিনী তৈরি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী যেমন আশ্বাস দিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে আমরা বদ্ধ পরিকর।”

    সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি শনিবার ক্লাস শেষের পর ৪০-৬০ মিনিট ধরে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ চলবে। সরকারি সিদ্ধান্তের পর কলকাতার বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। প্রতিটি জেলা প্রশাসন পেশাদার প্রশিক্ষক এবং শারীরশিক্ষা বা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে উপযুক্ত প্রশিক্ষকদের বেছে নেওয়া হবে। প্রতিটি স্কুলে একজন করে নোডাল শিক্ষক এই ক্লাসের পরিচালনা ও দেখভালের দায়িত্বে থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)