‘রাত ২টো পর্যন্ত কাজ করেও হচ্ছে না’, মুখ্যমন্ত্রীর ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে খুশির হাওয়া হাওড়ার পতাকা বাড়িতে!
প্রতিদিন | ০৯ আগস্ট ২০২৬
স্বাধীনতা দিবসের আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির নির্দেশমতো সারা রাজ্যে হর ঘর তেরঙ্গা পালিত হচ্ছে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে স্কুল থেকে শুরু করে সকলের কাছে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে জাতীয় পতাকা। ফলে এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশী জাতীয় পতাকা বাজারে বিক্রি একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ব্যবসায়ীদের কথায়, বাজারে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। আর তাই এ বছর জগাছার উনসানির ‘পতাকা বাড়িতে’ ব্যস্ততা অন্যান্যবারের তুলনায় অনেক বেশি।
উনসানির পতাকা বাড়ির কর্তা রাজু হালদার বললেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই এবার পতাকার চাহিদা অনেক বেড়েছে। অন্যান্যবার দিনে আমরা ৪ থেকে ৫ হাজার জাতীয় পতাকা তৈরি করতাম। এবার সেখানে দিনে ১০ থেকে ১৫ হাজার জাতীয় পতাকা তৈরি করছি আমরা। অসম, বিহার, ওড়িশার মতো ভিনরাজ্যে পতাকা তৈরি করে দেওয়ার পাশাপাশি এ রাজ্যেও প্রচুর পতাকা তৈরি করতে হচ্ছে। বড়বাজারের পাশাপাশি এবার আমরা বিজেপি নেতা ও স্কুল-কলেজ থেকেও প্রচুর জাতীয় পতাকা তৈরির বরাদ পাচ্ছি। যা অন্যান্যবারের তুলনায় অনেকটাই বেশি।” পতাকা বাড়ির কারখানায় কাজ করা এক শ্রমিক ফারুক খান বললেন, ‘‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর আমাদের অনেক বেশি পতাকা তৈরি করতে হচ্ছে। ফলত কাজের চাপও অনেক বেশি। আমরা কারখানায় ১৫ জন শ্রমিক মিলে সকাল ৭টা থেকে রাত ২ টো পর্যন্ত পতাকা বানিয়েও চাহিদা মতো সরবরাহ করতে পারছি না।’’
প্রসঙ্গত, জগাছার উনসানির এই ‘পতাকা বাড়ি’-তে ১৯৪৭ সালের পর থেকেই বংশপরম্পরায় জাতীয় পতাকা তৈরি করে আসছে এই হালদার পরিবার। তিনতলা বাড়ির রঙ তো বটেই বাড়ির ভিতরের ঘরগুলিও জাতীয় পতাকার গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙে সাজানো। স্বাধীনতার পর থেকেই বংশপরম্পরায় এই পরিবারের পেশা বা ব্যবসা পতাকা তৈরি। এ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তো বটেই, তৈরি হওয়া হাজার হাজার জাতীয় পতাকা বাসে, ট্রেনে করে চলে যায় ত্রিপুরা, বিহার, অসম, ওড়িশার মতো ভিনরাজ্যেও। আর তাই প্রত্যেকবছর ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের আগে জাতীয় পতাকার রঙের তিন তলা বাড়িটিতে জাতীয় পতাকা তৈরির চূড়ান্ত ব্যস্ততা থাকে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হল না। বরং এ বছর রাজ্য সরকারের তরফে হর ঘর তেরঙ্গা পালন করায় ব্যস্ততা আরও বেড়ে গিয়েছে।
এ বছরও স্বাধীনতা দিবসের আগে পতাকা রঙের ওই বাড়িটিতে গিয়ে দেখা গেল কারিগররা পতাকা তৈরিতে ব্যস্ত। কেউ পতাকার কাপড় সেলাই করছেন, তো কেউ আবার পতাকায় অশোক চক্রের ছাপ তৈরি করছেন। কেউ পতাকায় কাটিংয়ের কাজ করছেন তো কেউ আবার প্যাকিং করে থলেতে ভরে সরবরাহের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্যেকবছর এই কারিগরদের দিয়ে পতাকা তৈরি করান বাড়ির কর্তা রাজু হালদার।
উনসানির এই বাড়িটিতে ১২ ধরনের আকৃতির পতাকা তৈরি হয়। পতাকার দাম ৫ টাকা থেকে শুরু করে ৭০, ৮০, ১০০ ও ১৫০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস হয়ে গেলে তার পর ফের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই আবার জাতীয় পতাকা তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায় এখানে। ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের পর পতাকা তৈরির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায় বলে জানালেন রাজু হালদার ও এখানকার অন্যান্য কারিগররা।