১০ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরা, ভবানী ভবন থেকে বেরিয়েই অভিষেকের বাড়ি ছুটলেন পিএ সুমিত
প্রতিদিন | ০৯ আগস্ট ২০২৬
‘সুপ্রিম’ রক্ষাকবচ নিয়ে গিয়েছিলেন ভবানী ভবনে। ১০ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরা শেষে সিআইডি দপ্তর থেকে বেরলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। বেরিয়েই ছুটলেন অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে। সিআইডি তাঁর থেকে কী তথ্য পেল, তাও এখনও সামনে আসেনি। তাঁকে আগামিকাল ফের তলব করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জমি প্রতারণা মামলায় শুক্রবার রাতে তাঁকে তলবের নোটিস দেওয়া হয়। সেই তলবে সাড়া দিয়ে এ দিন নির্ধারিত সময়ের মাত্র কয়েক মিনিট আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছন সুমিত। জমি কেলেঙ্কারি-সহ মোট ৪টি মামলা রয়েছে সুমিতের নামে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুধুু জমি দুর্নীতি মামলাতে জামিন পেয়েছেন তিনি। তবে শর্ত রয়েছে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। সেই মোতাবেক তিনি সিআইডির তলবে সাড়া দেন।
সুমিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি জমি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। দুর্নীতির টাকা হাতঘুরে পৌঁছেছে তাঁর কাছে। এই মামলায় সরাসরি অভিষেকের নাম না জড়ালেও, অনেক সময় প্রশ্ন উঠেছে তিনি জড়িত কিনা। জেরা শেষে তিনি অভিষেকের বাড়িতে যাওয়ায় সেই প্রশ্ন ফের নতুন করে মাথাচড়া দিয়েছে।
উল্লেখ্য, মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক, এই মুহূর্তে জেলবন্দি সুজয় হাজরাকে গ্রেপ্তারের পরই উঠে আসে সুমিতের নাম। অভিযোগ, ছাব্বিশের ভোটে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেছে। এছাড়া শালবনিতে একটি জমি দুর্নীতি মামলাতেও অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে সুমিতের। এসব অভিযোগ পেয়ে মাসখানেক আগে সুমিতের খোঁজে শালবনি থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছয়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েও সুমিতকে পাওয়া যায়নি। সেই থেকে বেপাত্তা সুমিত। পরবর্তীকালে পুলিশের আবেদনে মেদিনীপুর আদালত সুমিতের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও লুকআউট নোটিস জারি করা হয়। এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হন সুমিতের আইনজীবী। এবার ভবানী ভবনে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়ার পর সুমিত ছুটলেন অভিষেকের বাড়ি।