ছাত্রভোট স্থগিত রাখা ‘ফ্যাসিজম’, তা গণতন্ত্রের পক্ষে খুব ভালো নিদর্শন নয়। এমনই মনে করেন ‘আসল’ তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ক্ষমতায় থাকতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। কিন্তু সরকার বদলের পর এবার তা দ্রুত করা হোক। এই দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীকে চিঠি পাঠাতে চলেছেন বিরোধী দলনেতা। শনিবার বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই জানালেন উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক। অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বামপন্থী সংগঠন ডিএসও আগামী ১ সেপ্টেম্বর কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছে।
নিজে উঠে এসেছেন ছাত্র রাজনীতির বৃত্ত থেকে। এসএফআইয়ের বাগ্মী নেতা ছিলেন। জাতীয় স্তরেও ধারালো বক্তব্য রাখা বাম ছাত্রনেতা হিসেবে সুনাম ছিল তাঁর। পরবর্তী সময়ে লাল পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে দ্বিতীয় দফায় রাজ্যসভার সাংসদ এবং ছাব্বিশে বিধায়ক সেই ঘাসফুল শিবির থেকেই। রাজ্যে সরকার বদলের পর মমতা শিবিরের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহী’ হয়ে ঋতব্রত এখন ‘আসল’ তৃণমূল। নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ার সূত্রেই বেশ ভালো বোঝেন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব। আর বর্তমান সরকারকে তা বোঝাতে গিয়ে ঋতব্রতর সংজ্ঞা, ”রাজনীতির আসল সাপ্লাই লাইন ছাত্রনেতারা। ছাত্র সংসদের ভোটেই তাঁরা উঠে আসেন।” এ প্রসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নামও উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, তিনিও ছাত্র রাজনীতির ফসল।
আর তাই তাঁর কাছে ঋতব্রতর আবেদন, যত দ্রুত সম্ভব কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করানো হোক। শুক্রবার নবান্নে বিরোধী দলের ১৩ বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। সেখানেই এই প্রসঙ্গ ওঠে। গত ৯ বছর ধরে ছাত্রভোট না হওয়ার কুফল হিসেবে একটি উদাহরণও তুলে ধরেছেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি জানান, তাঁরই এক সহপাঠী এই মুহূর্তে একটি কলেজে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী এবং একইসঙ্গে ছাত্র সংসদের জিএস। এসব ‘অবাঞ্ছিত’ নেতাদের সরাতে তাড়াতাড়িই দরকার নির্বাচন। আগামী ১২ তারিখ শুভেন্দু অধিকারী ও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে এনিয়ে চিঠি পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।