• মোদীকে ফোন জেডি ভান্সের, ভারত-আমেরিকা পার্টনারশিপ-সহ আর কী নিয়ে হলো আলোচনা?
    এই সময় | ০৯ আগস্ট ২০২৬
  • ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা বললেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। শনিবারের এই ফোনালাপে দুই নেতা ভারত ও আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পার্টনারশিপকে (Comprehensive Global Strategic Partnership) আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী মোদী ভান্স ও সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্সকে তাঁদের নবজাতক সন্তানের জন্য শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।

    এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভান্সের ফোনালাপের কথা জানান। তিনি জানা, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স তাঁকে ফোন করেছিলেন এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে মার্কিন সেনেটে ১০০ শতাংশ শুল্ক বিল পাশ হওয়া এবং FCRA বিল নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য মুরের মন্তব্যে বিদেশ মন্ত্রকের তীব্র আপত্তি জানানোর একদিন পরে ভান্সের এই ফোনকল অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

    কোন কোন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা?

    প্রধানমন্ত্রী মোদী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্সের আলোচনায় ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। দুই দেশ ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একত্রিত ভাবে কাজ করছে। সেই সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ ও নতুন (স্টার্টআপ) প্রযুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ—এই ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    দুই নেতা ভারত ও আমেরিকার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। পাশাপাশি, দুই দেশের স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন তাঁরা। তবে প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, এই অংশে নির্দিষ্ট কোনও বিষয় বা সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    ভারত-মার্কিন সম্পর্কে কৌশলগত গুরুত্ব

    ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রযুক্তি, বাণিজ্য, জ্বালানি, মহাকাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলের মতো একাধিক ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী যৌথ বিবৃতিতেও এই ভারতের সঙ্গে এই পার্টনারশিপকে পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন স্বার্থ এবং নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে মোদী-ভান্সের সাম্প্রতিক ফোনালাপকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ও নতুন প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলি বর্তমানে দুই দেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    এর আগে চলতি বছরেও ভারত ও মার্কিন নেতৃত্বের মধ্যে নিয়মিত বার্তালাপ হয়েছে। এপ্রিল মাসে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ফোন করেছিলেন। সেই সময়েও দুই দেশের গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ-এর বিভিন্ন দিক এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

    বর্তমানে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক

    ভারত-মার্কিন সম্পর্ক বর্তমানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্তরে বিস্তৃত। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা যেমন বাড়ছে, তেমনই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর, মহাকাশ, উন্নত প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মতো ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব বাড়ছে।

    শনিবারের মোদী-ভান্স ফোনালাপে সেই বৃহত্তর কৌশলগত সম্পর্ককেই আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা উঠে এসেছে। যদিও ফোনালাপে কোনও নতুন চুক্তি বা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের ঘোষণা করা হয়নি, তবু দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়মিত যোগাযোগ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    ভান্সের পরিবারে নতুন অতিথি, শুভেচ্ছা মোদীর

    ফোনালাপের সময়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যক্তিগত শুভেচ্ছাও বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সম্প্রতি জেডি ভান্সের স্ত্রী, মার্কিন ‘সেকেন্ড লেডি’ উষা ভান্স পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সেই উপলক্ষে ভান্স ও তাঁর স্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁদের সদ্যোজাত সন্তানের জন্য শুভকামনাও করেন।

    সব মিলিয়ে জেডি ভান্সের ফোনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে আলোচনা থেকে স্পষ্ট, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মতো কৌশলগত ক্ষেত্রেও ভারত ও আমেরিকা নিজেদের সহযোগিতা আরও গভীর করতে চাইছে। একইসঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)