সেই বিভীষকাময় রাতের দুই বছরের বর্ষপূর্তি। মাঝে রাজ্যের মসনদে ঘটে গিয়েছে পালাবদল। নয়া সরকারের অংশ নির্যাতিতার মা-ও। বিজেপির টিকিটে তিনি জয়ী বিধায়ক। নক্কারজনক ঘটনার দুই বছর বাদে প্রথমবার আরজি করের নির্যাতিতাকে স্মরণে নেওয়া হয়েছে সরকারি উদ্যোগ। রবিবার রাজ্যের সব সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং প্রতিষ্ঠানে দু’মিনিট নীরবতা পালনের নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর।
শনিবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, রবিবার, ৯ অগস্ট, রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অধীনে যত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেখানে আরজি কর ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে ‘অভয়া’র স্মৃতিতে ২ মিনিটের নীরবতা পালন করা হবে। সকাল ১১টা থেকে ১১টা ২মিনিট পর্যন্ত ২ মিনিট নীরবতা পালনের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে এমন উদ্যোগ এই প্রথম।
এ দিনই সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৈঠকে বসেন। সেখানে আরজি করের নির্যাতিতার স্মরণে নেওয়া হয় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত। তার পরেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘অভয়া’র স্মৃতিতে নীরবতা পালনের কথা।
এখানেই শেষ নয়, রবিবার নির্যাতিতার স্মরণে পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের লোকসংস্কৃতি ভবনেও রয়েছে বিশেষ কিছু কর্মসূচি। সেখানে নির্যাতিতার নামে তৈরি ট্রাস্টের তরফে কিছু আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যেরা। থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই ট্রাস্টের ভবিষ্যতের কর্মসূচি সম্পর্কে মিলতে পারে ইঙ্গিত।
দুই বছর কেটে গেলেও এখনও অধরা আরজি কর কাণ্ডের ন্যায়বিচার। ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট, দিনের আলো ফোটার আগেই আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগে ঘটেছিল নক্কারজনক এক ঘটনা। কর্তব্যরত অবস্থায় নৃশংস ভাবে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল এক মহিলা চিকিৎসককে। সেই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। ঘটনার প্রতিবাদে রাজনীতির রং তুড়ি মেরে উড়িয়ে এক হয়েছিল আমজনতা। কলকাতার রাজপথে জ্বলা আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশে। এমনকী বিদেশে বসবাসকারী প্রবাসীদের মধ্যেও। রাতজাগা, অনশন, মিছিলে এক হয়েছিল জনতা।
ক্ষমতায় এসেই আরজি কর মামলার ফাইল খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি সরকার এবং সে অনুযায়ী তদন্তের গতিও এগোচ্ছে। এর মাঝেই চিকিৎসক-ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এ বার নিজস্ব স্তরে পৃথক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর।
উল্লেখ্য, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্তে নেমে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে গেলে, তারাও নিজেদের চার্জশিটে সঞ্জয়কেই একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করে। শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
তবে শুরু থেকেই পুলিশ ও সিবিআই-এর তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করছিলেন নিহত চিকিৎসকের পরিবার। তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিলে সিবিআই-এর একটি নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। নতুন করে শুরু হওয়া তদন্তে কী কী অগ্রগতি হয়েছে, সিবিআইকে তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ২৮ অগস্ট সেই রিপোর্ট জমা দেবে CBI।