বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক আক্রোশের মুখে পড়ে কার্যত গ্রামছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা। এ বার গভীর রাতে আউশগ্রামের আলিগ্রাম এলাকায় সেই নেতার বাড়ির পাশেই রাখা ট্রাক্টরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল। আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে ট্রাক্টরটি। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক সক্রিয় বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাস্থল: পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের আলিগ্রাম।
কী ঘটেছে: গভীর রাতে তৃণমূল নেতার ট্রাক্টরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ।
ক্ষয়ক্ষতি: আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে ট্রাক্টরটি।
আক্রান্ত: আউশগ্রাম ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তাপস চট্টোপাধ্যায়।
অভিযোগ: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ট্রাক্টরে আগুন লাগানো হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
গ্রামছাড়া: নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর হুমকির জেরে তাপস চট্টোপাধ্যায় গ্রামছাড়া রয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।
গ্রেপ্তার: ঘটনায় বাপন নায়েক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি: ধৃত ব্যক্তি এলাকায় বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
বিজেপির বক্তব্য: ধৃতের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।
তদন্ত: ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত তৃণমূল নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায় আউশগ্রাম ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। পেশায় কৃষক তাপসবাবুর পরিবারের দাবি, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় কয়েকজন বিজেপি কর্মীর হুমকি ও বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। নিরাপত্তা ও প্রাণভয়ে বাধ্য হয়ে তিনি গত কিছুদিন ধরে গ্রামছাড়া রয়েছেন। পরিবারের চাষাবাদের কাজে ব্যবহারের জন্য বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া খামারের ছাউনির নীচে একটি ট্রাক্টর রাখা থাকত। অভিযোগ, গভীর রাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত সেই ট্রাক্টরে আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় আলিগ্রাম এলাকায়। তাপসবাবুর ভাই অনুপ চট্টোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘ভোটের পর থেকেই গ্রামের কয়েকজন আমাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছেন। আমরা পুলিশ প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কাতর প্রার্থনা জানাচ্ছি, যাতে আমরা নিজেদের ভিটেমাটিতে নিরাপদে বসবাস করতে পারি।’
ঘটনার পরে শনিবার পরিবারের তরফে গুসকরা পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নেমে বাপন নায়েক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ব্যক্তি এলাকায় বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
তবে পুলিশের এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। আউশগ্রাম বিধানসভার বিজেপি কনভেনর গণেশ সরকার জানান, ‘ধৃত বাপন নায়েকের সঙ্গে বিজেপির দূর-দূরান্তের কোনও সম্পর্ক নেই। পুলিশ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। আইন নিজের পথেই চলবে।’ ঘটনাকে ঘিরে এলাকা জুড়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। পুলিশ ঘটনার পিছনে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে।
১. আউশগ্রামে কার ট্রাক্টরে আগুন লাগানো হয়েছে?
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা আউশগ্রাম ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তাপস চট্টোপাধ্যায়ের ট্রাক্টরে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে।
২. কোথায় ট্রাক্টরে আগুন লাগানো হয়?
পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের আলিগ্রাম এলাকায় তাপস চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির পাশে রাখা ট্রাক্টরে আগুন লাগানো হয়।
৩. ঘটনায় কাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ?
বাপন নায়েক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
৪. ধৃত ব্যক্তি কি বিজেপির কর্মী?
পুলিশের দাবি, বাপন নায়েক এলাকায় বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তবে বিজেপি নেতৃত্ব এই দাবি অস্বীকার করেছে।
৫. বিজেপির বক্তব্য কী?
আউশগ্রাম বিধানসভার বিজেপি কনভেনর গণেশ সরকার দাবি করেছেন, ধৃত বাপন নায়েকের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।
৬. কেন তাপস চট্টোপাধ্যায় গ্রামছাড়া?
পরিবারের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর স্থানীয় কয়েকজন বিজেপি কর্মীর হুমকি ও বিক্ষোভের জেরে নিরাপত্তার কারণে তাপস চট্টোপাধ্যায় গ্রামছাড়া রয়েছেন।
৭. ঘটনায় কি রাজনৈতিক সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে?
হ্যাঁ। তৃণমূলের তরফে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বিজেপি অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
৮. পুলিশ কী তদন্ত করছে?
ট্রাক্টরে আগুন লাগানোর ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।