এই সময়: মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছিলেন ৭০ বছরের বৃদ্ধা। জানতেন না, তাঁর আর বাড়ি ফেরা হবে না। তিনি যখন রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন, তীব্র গতিতে ছুটে আসা একটি মার্সিডিজ় মুখোমুখি ধাক্কা মারে অন্য একটি গাড়িকে। সংঘর্ষের ফলে দ্বিতীয় গাড়িটি ছিটকে গিয়ে ধাক্কা মারে তৃতীয় একটি গাড়িকে। আর সেই দু'টি গাড়ির মধ্যে পড়ে মৃত্যু হলো ওই বৃদ্ধার। চূড়ান্ত নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর জন্য হরিয়ানা পুলিশের এক কর্মীর ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৭০ বছরের মৃত বৃদ্ধার নাম ঊর্মিলা, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা।
শনিবার সকালে দিল্লির নারেলার মামুরপুরে 'হিমালয় অ্যাপার্টমেন্ট' নামে একটি আবাসনের সামনের রাস্তায় যখন এই ঘটনা ঘটে, তখন সকাল আটটা। তীব্র গতিতে একটি মার্সিডিজ় গাড়ি চালাচ্ছিলেন হরিয়ানা পুলিশের সাব ইনস্পেক্টরের ছেলে শুভম। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অতিরিক্ত মদ্যপান করেই শুভম বেপরোয়া গাড়ি ছোটাচ্ছিলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, শুভমের গাড়ি প্রচণ্ড গতিতে উল্টোদিক থেকে আসা একটি ওয়াগন আরকে মুখোমুখি ধাক্কা মারে। ধাক্কার চোটে ওয়াগন আরটি পিছনে ছিটকে যায়। পিছনেই একটি তিনচাকার ভ্যান পার্ক করে রাখা ছিল। ওয়াগন আর ও ভ্যানটির মধ্যে পড়ে যান ওই বৃদ্ধা। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ওয়াগন আর-এর চালকেরও আঘাত লাগে, তবে তা গুরুতর নয়। দুর্ঘটনার পরের কিছু ছবি সামনে এসেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে শুভম তখনও নেশাগ্রস্ত ও কিছুটা বিভ্রান্ত অবস্থায় চালকের আসনে বসে! গাড়ির কাপ হোল্ডারে মদের বোতল তখনও রাখা। পুলিশ জানিয়েছে, মার্সিডিজ় গাড়িটি একদিন আগেই এক বন্ধুর কাছ থেকে ধার করেছিলেন শুভম।
মদ খেয়ে বেপরোয়া গাড়ি ছুটিয়ে মানুষ মারার ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। ২০২৪–এ পুনেতে এক ব্যবসায়ীর নাবালক পুত্রের বেপরোয়া পোর্শে প্রাণ কেড়েছিল দুই ইঞ্জিনিয়ারের। গত নভেম্বরে বসন্ত কুঞ্জের কাছে বেপরোয়া গতিতে চালানো মার্সিডিজ়ের ধাক্কায় এক জনের মৃত্যু হয়েছিল।