স্কুলে মদ্যপ অবস্থায় আসা, ক্লাস না নেওয়া, স্কুল চত্বরে মলত্যাগ করে সেই মল পড়ুয়াদের দিয়ে পরিষ্কার করানো—সরকারি প্রাথমিক স্কুলের এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমনই ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে মধ্যপ্রদেশে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মাইহার জেলার অমৌরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই প্রধান শিক্ষককে শোকজ় নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাঁকে সাসপেন্ড করার সুপারিশও পাঠানো হয়েছে শিক্ষা দপ্তরের কাছে।
পড়ুয়া ও অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে আসেন। মুখে গুটখা নিয়ে স্কুল চত্বরে ঘোরেন এবং বিভিন্ন জায়গায় গুটখার পিক ফেলেন। শুধু তাই নয়, স্কুলের ভিতরেই মলত্যাগ করে সেই নোংরা পড়ুয়াদের দিয়ে পরিষ্কার করান বলে অভিযোগ।
তৃতীয় শ্রেণির এক পড়ুয়ার দাবি, প্রধান শিক্ষক তাঁকে মল পরিষ্কার করতে বাধ্য করেছিলেন এবং সেই সময় তাঁকে গালিগালাজও করা হয়। ওই পড়ুয়ার অভিযোগ, শিক্ষক মদ্যপ অবস্থায় থাকেন এবং ঠিকমতো পড়াতেও পারেন না। অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে সময়মতো আসেন না। অনেক দিন তাঁকে বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে স্কুলে ঢুকতে দেখা যায়। ফলে দীর্ঘ সময় শিক্ষক না থাকায় পড়ুয়ারা এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করতে থাকে।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শুধু দুর্ব্যবহারের অভিযোগই নয়, স্কুলের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগও উঠেছে। অভিভাবকদের দাবি, নিয়মিত ক্লাস হয় না। শিক্ষক দেরিতে আসায় পড়ুয়ারা দীর্ঘ সময় কোনও তত্ত্বাবধান ছাড়াই থাকে।
এমনকী মিড-ডে মিল পরিষেবাও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকদের একাংশ। পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় জলও স্কুলে অনেক সময় পাওয়া যায় না বলে দাবি তাঁদের। এক অভিভাবকের অভিযোগ, শিক্ষক মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে থাকলে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক স্কুলের পরিবেশের প্রতি একেবারেই দায়িত্বশীল নন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা এক পড়ুয়ার মা দাবি করেন, তিনি মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে এসে যেখানে-সেখানে মলত্যাগ করেন এবং পরে শিশুদের দিয়ে তা পরিষ্কার করান। আর এক অভিভাবকের দাবি, শিক্ষক গুটখা খেয়ে স্কুলের দেওয়াল ও চত্বরে পিক ফেলেন। ফলে স্কুলের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে স্থানীয় শিক্ষা দপ্তর। মাইহারের ব্লক এডুকেশন অফিসার রাজেশ দ্বিবেদী জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। প্রধান শিক্ষককে শোকজ় নোটিস দেওয়া হয়েছে। কেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ জেলা শিক্ষা আধিকারিকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
১. স্কুলের হেডমাস্টারের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে?
অভিযোগ, হেডমাস্টার মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে আসতেন এবং স্কুল চত্বরে মলত্যাগ করে পড়ুয়াদের দিয়ে তা পরিষ্কার করাতেন।
২. ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে?
ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের মাইহার জেলার আমুরা প্রাইমারি স্কুলে ঘটেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. হেডমাস্টারের বিরুদ্ধে গুটখা খাওয়ার অভিযোগও কি রয়েছে?
হ্যাঁ। পড়ুয়া ও অভিভাবকদের অভিযোগ, তিনি স্কুলে গুটখা খেতেন এবং স্কুলের বিভিন্ন জায়গায় থুতু ফেলতেন।
৪. অভিযুক্ত হেডমাস্টার কি অভিযোগ স্বীকার করেছেন?
না। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৫. প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
ব্লক এডুকেশন অফিসার জানিয়েছেন, হেডমাস্টারকে শো-কজ নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব জেলা শিক্ষা আধিকারিকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
৬. পড়ুয়াদের পড়াশোনায় কী প্রভাব পড়েছে?
অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস হয় না এবং হেডমাস্টার দেরিতে স্কুলে আসায় পড়ুয়ারা অনেক সময় তত্ত্বাবধানহীন অবস্থায় থাকে।