শ্যামগোপাল রায়
প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে চালু হতে চলেছে যশোহর রোডের ধারে অত্যাধুনিক হাসপাতাল। ২০০৯–এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরে দেড় দশক অসম্পূর্ণ ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা সাততলা বিল্ডিংয়ে একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। সম্প্রতি এই প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠিত হয়েছে। রাজারহাট–গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি হাসপাতাল চালুর আর্জিতে চিঠি দেন স্বাস্থ্য দপ্তরে। তাঁর কথায়, 'হাসপাতালটি চালু হলে এলাকার প্রচুর মানুষ উন্নত মানের আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পাবেন। বিধানসভার অধিবেশনেও হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তার বলেছিলাম। সেই আবেদনে গুরুত্ব দিয়ে বিল্ডিংটির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিটি হয়েছে।' তারা দ্রুত রিপোর্ট পেশ করবে এবং এর ভিত্তিতে হাসপাতাল তৈরির কাজ এগোবে বলে আশাবাদী বিধায়ক।
স্বাস্থ্য দপ্তরের ডিরেক্টর অফ হেলথ সার্ভিসেসের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন পড়ে থাকা বিল্ডিং পরিদর্শন করবে ওই কমিটি। তার পরে বিল্ডিংয়ের এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম বসানোর পরিকাঠামো যাচাই করে দ্রুত রিপোর্ট দেবে তারা। যার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ ও বিল্ডিং সাজানো শুরু হবে।
হাসপাতালে প্রায় ২০০ শয্যার পরিকল্পনা রয়েছে। এমআরআই, ইসিজি, ইউএসজি, এক্স-রে, পূর্ণাঙ্গ প্যাথলজি ল্যাব, আইসিইউ এবং এনআইসিইউ(নিকু) থাকবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কেমোথেরাপি ওয়ার্ডে। হাসপাতালের বেসমেন্টে দেহ সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা থাকবে। দ্রুত ওপিডি পরিষেবা চালুর প্ল্যানও আছে। হাসপাতালটি পরিচালিত হবে পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে। ২০১৩–য় দক্ষিণ দমদম পুরসভা বিল্ডিং বানালেও হাসপাতাল চালু হয়নি। এখন আশার আলো দেখছেন দমদম, লেকটাউন, বাঙুর, দমদম পার্ক, কালিন্দীর বাসিন্দারা।