• তিন বছর পরেও মেলেনি বিচার, মুখ্যমন্ত্রীকে মেল যাদবপুরের হস্টেলে র‍্যাগিং-নির্যাতনে মৃত ছাত্রের বাবার
    এই সময় | ০৯ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: সেটাও ছিল ৯ অগস্ট। ২০২৩। চোখ জোড়া স্বপ্ন নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ছেলেকে ভর্তি করানো নদিয়ার এক পরিবারের মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। রাতে হঠাৎ খবর এল, ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে যাদবপুরের মেইন হস্টেল থেকে। পরে জানা যায়, র‍্যাগিং ও যৌন হেনস্থা করে মেরে ফেলা হয়েছে তাকে। বাকি জীবনের মতো অন্ধকার নেমে এল, স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল মা–বাবার। কিন্তু তিন বছর পার, ওই নিহত ছাত্রের মা–বাবা এখনও তাঁদের ছেলের বিচারের অপেক্ষায়। মামলার চূড়ান্ত ফয়সালা এখনও অধরা। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন যাদবপুরের ওই নিহত ছাত্রের বাবা।

    দিন কয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রীকে ই–মেল করে তাঁর সময় চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন ওই নিহত ছাত্রের বাবা। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে ই–মেলে তিনি লিখেছেন, 'আমার ছেলের মামলার চলমান আইনি প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা এবং অগ্রগতি নিয়ে আলোচনার জন্য আপনার সুবিধে মতো সময়ে আমাকে একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের সুযোগ দিলে আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।' ওই ব্যক্তির আশা, দ্রুত নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাতের দিনক্ষণ জানা যাবে। তিনি বলেন, 'অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীরা ভালো মতোই জানেন, কী ভাবে তারিখের পর তারিখ নেওয়া যায়। আমি ক্লান্ত, তবু বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা হারাইনি। বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে, কিন্তু একদিন না একদিন বিচার নিশ্চয়ই হবে।'

    ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত সন্দেহে প্রাক্তনী ও সেই সময়কার ছাত্র মিলিয়ে মোট ১২ জন আজও জেলবন্দি। তাঁদের বিরুদ্ধে খুন ও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে এবং পকসো আইনে মামলা হয়েছে। যখন ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়, তখন সে ছিল নাবালক। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করার সময়ে ছাত্রটির দেহে পোশাক ছিল না। ওই ১২ জন ছাড়াও হস্টেলে র‍্যাগিং সংস্কৃতি চালানো, প্রমাণ লোপাট, পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমকে হস্টেলে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কয়েক জনকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি। তবে তাঁদের কোনও শাস্তি হয়নি, এমনটাই অভিযোগ নিহত ছাত্রের পরিবারের। তাঁরা এই ব্যাপারেও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)