এই সময়: কলকাতা হাইকোর্ট গত বছর ১ সেপ্টেম্বর নাম পাঠানোর ন'মাসের মাথায় সেই তালিকা নিয়ে আলোচনার পরে ন'জনের নাম হাইকোর্টের বিচারপতি পদের জন্যে সুপারিশ করেছিল সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম। কলেজিয়ামের তরফে গত ১২ মে পাঠানো তালিকা থেকে আটটি নামে শুক্রবার রাষ্ট্রপতি সিলমোহর দেন। নজিরবিহীন ভাবে তার ১২ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন সেই আট জন, যাঁরা এই হাইকোর্টেরই আইনজীবী।
সাধারণত রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পরে নতুন বিচারপতিদের শপথে কয়েক দিন কেটে যায় প্রায় সব হাইকোর্টেই। কলকাতায় মঙ্গলবার শপথ-অনুষ্ঠান হবে বলে জল্পনা চলছিল। কিন্তু শনিবার বিকেল তিনটে নাগাদ হাইকোর্টের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, এ দিনই বিকেল চারটে পনেরোয় নতুন বিচারপতিদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। বিচারপতি হিসাবে একে একে শপথ নেন আর্যক দত্ত, অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপকুমার দে, পার্থপ্রতিম রায়, সুদীপ দেব, অনুজ সিং, অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায় ও রিশদ মেদোরা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অন্য বিচারপতিরাও। শপথের পরে নতুন বিচারপতিরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও রাখেন।
সাধারণ ভাবে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগে বিদ্ধ ভারতীয় বিচারব্যবস্থা। েসখানে হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষের তরফে তড়িঘড়ি এই শপথ-অনুষ্ঠানের আয়োজন অনেককেই অবাক করেছে। এর ফলে সোমবার থেকে হাইকোর্টে বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ছে। মামলা নিষ্পত্তির হারও বাড়বে বলে আশা। উপকৃত হবেন বিচারপ্রার্থীরা। তাই হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন বর্ষীয়ান আইনজীবীরা।
ঘটনা হলো কলকাতার আট জনের সঙ্গে একই দিনে মাদ্রাজ ও কর্নাটক হাইকোর্টে কয়েক জন বিচারপতি নিয়োগেও শুক্রবার সিলমোহর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। মাদ্রাজ হাইকোর্ট সোমবার ওই বিচারপতিদের শপথের দিন ঘোষণা করেছে। আবার কর্নাটক হাইকোর্ট আজ, রবিবার শপথের দিন ধার্য করেছে। বর্ষীয়ান আইনজীবীদের কেউ কেউ মনে করছেন, নিয়মমতো যে যত আগে শপথ নেবেন সর্বভারতীয় বিচারপতি তালিকায় তাঁর সিনিয়রিটি তত আগে আসবে। ভবিষ্যতে অন্য হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি পদে যাওয়া বা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ক্ষেত্রে সিনিয়রিটি বড় ফ্যাক্টর। এমনকী একদিন আগের শপথও ভবিষ্যতে দেশের প্রধান বিচারপতির দৌড়ে কোনও কোনও বিচারপতিকে এগিয়ে দিতে পারে। কেউ কেউ মনে করছেন, কলকাতার বিচারপতিদের সিনিয়রিটি নিশ্চিত করতেই মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে শপথের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যা অন্যতম চার্টার্ড হাইকোর্টের মর্যাদার সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ। তবে নজিরবিহীন।