আরজি করের ঘটনার পরে দু’বছর পার। সেই নির্যাতিতাকে স্মরণ করে নীরবতা পালন সমস্ত সরকারি হাসপাতালে। কলকাতা-সহ রাজ্যের জেলায় জেলায় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে রবিবার সকাল ১১টা বাজতেই ২ মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। ডাক্তার, নার্স থেকে স্বাস্থ্যকর্মী, সকলেই নীরবতার মধ্যে দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আরজি করের নির্যাতিতাকে। নীরবতা পালন করা হয় স্বাস্থ্যদপ্তরেও। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এই প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে আরজি করের নির্যাতিতাকে স্মরণ করা হলো।
ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের তরফে আজ দুপুর দেড়টায় কলেজ স্কোয়্যার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এক মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। তাদের স্লোগান, ‘আর কতদিন সময় চাই? জবাব দাও CBI।’ ফ্রন্টের বক্তব্য, ‘কলকাতা হাইকোর্টের শুনানিতে সিবিআই জানিয়েছে, ওই ছাত্রীর সঙ্গে ঘটনার আগের রাতে যারা একসঙ্গে খাবার খেয়েছিলেন, তাঁদের বয়ান নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দু’বছর পরেও যদি তদন্তের এমন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু করতে হয়, তা হলে প্রশ্ন উঠবেই— আর কত সময়? প্রতিটি বিলম্ব শুধু একটি মামলার বিলম্ব নয়, এটি একটি পরিবারের অপেক্ষা, একটি সমাজের আস্থা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের বিশ্বাসকে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করায়। আমরা কোনও বিলম্বের ব্যাখ্যা চাই না। আমরা চাই সত্য সামনে আসুক, দোষীরা আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি পাক এবং অভয়ার ন্যায়বিচার আর বিলম্বিত না হোক।’
শনিবারই স্বাস্থ্য ভবন থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। বলা হয় ‘অভয়া’র স্মরণে ৯ অগস্ট সকাল ১১টা থেকে ১১টা ২ মিনিট পর্যন্ত দু’মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। সেই মতোই এ দিন কলকাতা, হুগলি, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, ডায়মন্ড হারবার, মেদিনীপুর-সহ বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়।
আরজি করের এই ঘটনার বিভিন্ন দিক নতুন করে খতিয়ে দেখতে পৃথক ভাবে তদন্ত চালাচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। ঘটনার আগে ও পরে হাসপাতালে কোথায় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত ফাঁক ছিল, কী ভাবে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, পরে কী ভাবে সেই ফাঁকগুলি পূরণ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে শনিবারই জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ দিন তিনি বলেন, ‘আমরা সত্য উদঘাটনে দায়বদ্ধ। এই ঘটনার পরে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের একটা অভিযোগ এসেছে। সেটা সত্যিই হয়েছে। তাই আমাদের দপ্তর নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। প্রমাণ লোপাট কে করেছিল, কেন করেছিল, কবে করেছিল, কার আদেশে করেছিল তা খতিয়ে দেখা হবেই।’