ঝাড়খণ্ডে ২০২৪ সালের স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরীক্ষাতেও প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল। পরীক্ষার ১৫০টি প্রশ্নের মধ্যে ১২০টির উত্তরই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে! এ বার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সে রাজ্যে আন্দোলন দানা বাঁধতেই দু’বছর আগের সেই কেলেঙ্কারি নিয়ে সিআইডি তদন্তের পুরোনো রিপোর্ট আবার প্রকাশ্যে এল।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে এই রিপোর্ট জমা দিয়েছিল সিআইডি। কিন্তু অভিযোগ, সেটিকে গুরুত্বই দেয়নি রাজ্য সরকার। পরিবর্তে রিপোর্টটি সরিয়ে রেখে আরও একটি সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে দ্বিতীয় সিট পুরোনো রিপোর্টটি খারিজ করে নতুন রিপোর্ট জমা দেয়। তাতে বলা হয়, পরীক্ষা একেবারে স্বচ্ছ ভাবেই হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনাই ঘটেনি।
২০২৪ সালে প্রশ্নফাঁসের কারণে স্টাফ সিলেকশন কমিশনের প্রথম পরীক্ষাটি বাতিল হয়ে গিয়েছিল। পরে দ্বিতীয় বার পরীক্ষা হয় ওই বছরের ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বরে। অনিয়ম ঠেকাতে পরীক্ষা চলাকালীন রাজ্য জুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেই পরীক্ষার উত্তরপত্র ফাঁস হয়। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সিআইডি-র সেই রিপোর্ট তাদের হাতে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, হাজারিবাগ, জামশেদপুর, পাটনা এবং পশ্চিমবঙ্গ, এমনকী নেপালের বিভিন্ন জায়গা থেকে পরীক্ষার উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীদের পাঠানো হয়েছিল টাকার বিনিময়ে।
চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের দাবি, ল্যান্ডলাইন থেকে ফোন করেও মুখে মুখে উত্তর বলে দেওয়া হয়েছিল। জিত কুমার নামে এক চাকরিপ্রার্থী এনডিটিভি-কে বলেন, ‘আমরা শুধু উত্তরপত্র পেয়েছিলাম। প্রশ্ন পাইনি। পরীক্ষার পরে দেখলাম, যা উত্তর দেওয়া পেয়েছিলাম, সব মিলে গিয়েছে।’ জিত-সহ বেশ কয়েক জন চাকরিপ্রার্থী রাঁচীর আদালতে এ নিয়ে মামলা করেছেন। আদালতে উত্তরপত্রের কিছু ছবিও জমা দেওয়া হয়েছে। এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, সেটি পরীক্ষার দিন, অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৭.২৩ মিনিটে তোলা হয়েছে। অর্থাৎ, পরীক্ষার ঠিক আগে। ছবিটিতে জায়গার নাম হিসেবে রয়েছে জামশেদপুর।
চাকরির পরীক্ষা নিয়ে ঝাড়খণ্ডে এখন রাঁচীর জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে যে আন্দোলন চলছে, তার অন্যতম নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো বলেন, ‘একের পর এক পরীক্ষায় দুর্নীতির কারণে হাজার হাজার যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়া হবে না।’ আন্দোলনকারীরা এ নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। তার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী দীপিকা সিং বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ একেবারেই যুক্তিসঙ্গত। ওরা অনেক গঠনমূলক প্রস্তাবও দিয়েছেন। সরকার খুব দ্রুত স্থায়ী সমাধান বের করবে। তবে কিছুটা সময় প্রয়োজন।’