• হালিশহরে প্রবল বিক্ষোভের মুখে মমতা, গাড়িতে ইট-কাদা-জুতো, ‘চোর’ স্লোগান শুনলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী
    এই সময় | ০৯ আগস্ট ২০২৬
  • হালিশহরে রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে প্রবল বিক্ষোভ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগান। মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে বীজপুরের হালিশহরে এই ঘটনা ঘটে। গাড়িতে কাদা লেপে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শান্ত এলাকা অশান্ত করতে এসেছেন মমতা।

    হালিশহর থানার লকআপে এক তৃণমূলকর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। ওই তৃণমূল কর্মীর নাম বিরজু কেয়ট। তিনি তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাঁর স্ত্রী জেনি শর্মা কেয়ট কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার। সম্প্রতি হালিশহরের এক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে বিরজুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি, আর্থিক প্রতারণা ও অস্ত্র আইনে মামলা রুজু হয়।

    শুক্রবার তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হলে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। পুলিশের দাবি, শনিবার সকালে থানার লকআপে বিরজু আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    যদিও পরিবারের অভিযোগ, লকআপে পুলিশের মারেই বিরজুর মৃত্যু হয়। যদিও পুলিশের তরফে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সেই বিরজুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতেই এ দিন হালিশহরে যান মমতা। সেখানেই তুমুল অশান্তি শুরু হয়। তাঁকে ঘিরে ‘চোর’ স্লোগান ওঠে। গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কাদা, জুতো।

    হালিশহরের ভূতবাগানে বাড়ি বিরজু কেয়টের। মমতার গাড়ি সেখানে ঢুকতেই প্রবল বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। মমতার গাড়ির পিছনে ‘চোর, চোর’ বলে ছুটতে থাকেন এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, যিনি মারা গিয়েছেন, তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা রয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৫ বছর ধরে বাংলাকে শেষ করে দিয়েছেন বলে দাবি তাঁদের। এখন তিনি শান্ত বীজপুরকে অশান্ত করতে এসেছেন বলেও দাবি তাঁদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায় পুলিশ।

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি, ধিক্কার জানাচ্ছি। পুলিশ লকআপে মৃত্যুর পরেও ওরা বাড়িতে এসে ভয় দেখাচ্ছে। বাইরে থেকে লোক এনে এই ঝামেলা করা হয়েছে। অশ্রাব্য কথা, গাড়িতে বড় বড় ইট মেরেছে। গাড়িটা দেখলে বোঝা যাবে। বাংলা আজ লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমি যে একটা বাড়িতে দেখা করতে আসব বলেছি, বিধায়ক নিজে এসে পরিবারকে ঘর থেকে বেরোতে না করেছেন। আমরা কেস করব।’ যদিও এ নিয়ে এখনও বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মৃতের পরিবারের লোকেরও দাবি, এই মুহূর্তে বিচার নিয়ে আগ্রহী তারা। এর বাইরে কোনও কিছু নিয়েই তাদের আগ্রহ নেই।

    যদিও এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘বিশেষ কিছু বলব না। এটা তাঁর কর্মফল। অগণতান্ত্রিক ভাবে প্রতিবাদ দেখিয়ে তাঁকে প্রাসঙ্গিক করার কোনও মানে নেই। তিনি এখন বাংলার মানুষের দ্বারা পরিত্যক্ত। এটাও হতে পারে তাঁর ভিতরের লোকেরাই পরিকল্পনা করে এ সব করতে পারেন।’

  • Link to this news (এই সময়)