• নিট-কাণ্ডে দেশজুড়ে আন্দোলনের পরিকল্পনা কংগ্রেসের, কাঁটা ঝাড়খণ্ড, কোন পথে তৃণমূল?
    প্রতিদিন | ০৯ আগস্ট ২০২৬
  • বন্ধু যখন গলার কাঁটা! এই পরিস্থিতিতে যে ভোগান্তিতে পড়তে হয়, প্রশ্নফাঁস ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করতে গিয়ে, দেশজুড়ে আন্দোলন সংগঠিত করতে গিয়ে, এখন সেই অবস্থাই হয়েছে কংগ্রেসের। দেশের জেন জি পড়ুয়াদের কাছে সরাসরি পৌঁছনোর জন্য যখন প্রয়াগরাজে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠান করছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, তখন জেপিএসসি, জেএসএসসি-সহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে রাঁচিতে চলা ছাত্র আন্দোলনের জেরে সমস্যায় কংগ্রেস। তাদের পরিকল্পনা রয়েছে প্রশ্নফাঁসকে হাতিয়ার করে আসমুদ্রহিমাচল বিজেপি বিরোধী আন্দোলন-আক্রমণ সংগঠিত করা।

    সংসদ থেকে রাজপথ আন্দোলনে নামার লক্ষ্যে ‘বন্ধু’ ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা সরকারের ব্যর্থতা বাধা তৈরি করছে কংগ্রেসের সামনে। কংগ্রেসের প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ শরিকদের নিয়ে প্রশ্নফাঁস, দিল্লি ও বিহারে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশি আক্রমণ নিয়ে দেশজুড়ে কর্মসূচি নেওয়া। ইতিমধ্যেই ঠিক হয়ে রয়েছে, সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হয়ে গেলে বিহারের সিওয়ান জেলায় যাবে ‘ইন্ডিয়া’-র প্রতিনিধিদল। যেখানে বড় ভূমিকা নিতে দেখা যাবে তৃণমূল কংগ্রেসকেও। রাজ্যে সাম্প্রতিক ভরাডুবির পর, যাদের আবার মনে পড়েছে ‘ইন্ডিয়া’-র কথা। বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে যারা বারবার সবাইকে একসঙ্গে চলার বার্তা দিচ্ছে, সেই তৃণমূলের দুই কক্ষ মিলিয়ে অন্তত জনাপাঁচেক সাংসদের যাওয়ার কথা বিহার। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে রাঁচি যাওয়ারও কোনও পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাওয়া হলে কিছুটা বিরক্ত হয়েই অত্যন্ত সিনিয়র এক সাংসদ বলে বসলেন, “প্রধানমন্ত্রী যদি মণিপুর যান, তাহলে আমরাও রাঁচি যেতে পারি।”

    রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এই প্রসঙ্গে বলেন, “সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে রাজ্যসভা হেঁটে আসতে ৪০ সেকেন্ড সময় লাগে। উনি তো আবার যোগব্যায়াম করে নাকি খুব ফিট। তাহলে ওঁর সর্বোচ্চ ৩০ সেকেন্ড লাকবে। এইটুকু পথ উনি পার করতে পারলেই, আমরাও রাঁচি চলে যাব।” গোটা বাদল অধিবেশন জুড়ে বিরোধী সাংসদরা যখন নিট কাণ্ড নিয়ে উত্তাল হয়েছেন, তখন মাঝেমধ্যেই ঝাড়খণ্ড ও পাঞ্জাবের বিজেপি সাংসদরা পাল্টা তাদের রাজ্যে প্রশ্নফাঁস নিয়ে সরব হয়েছেন। পাঞ্জাবের বিষয়টি নিয়ে তেমন বড় আলোড়ন না হলেও রাঁচির আন্দোলনে বেকায়দায় হেমন্ত সোরেন সরকার। বিজেপির কটাক্ষ, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে লড়াই কি শুধু বিজেপিশাসিত রাজ্যেই প্রযোজ্য? জোটসঙ্গীর রাজ্যে প্রশ্ন উঠলে সেই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? ঠিক এই জায়গাতেই বেকায়দায় পড়ছে কংগ্রেস। দিল্লি ও জাতীয় ক্ষেত্রে যখন সরব দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল, তাদেরই আবার ঝাড়খণ্ডের ক্ষেত্রে মুখে কুলুপ কেন? প্রশ্ন উঠছে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন কি সত্যিই পড়ুয়াদের জন্য? নাকি তাঁদের সিঁড়ি করে মসনদে বসতে চেয়ে?
  • Link to this news (প্রতিদিন)