‘অভিষেকের দুর্ব্যবহার, মানসিক অত্যাচার’, দলত্যাগের নেপথ্যে আইপ্যাককে দুষলেন আবু তাহের
প্রতিদিন | ০৯ আগস্ট ২০২৬
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্ব্যবহার ও মানসিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই তৃণমূল ত্যাগ। সাফ কারণ জানিয়ে দিলেন এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহের। নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে অভিষেকের পাশাপাশি আইপ্যাককেও দুষেছেন তিনি। মুর্শিদাবাদের সাংসদের কথায়, ‘‘বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থীতালিকা তৈরির সময়ে আইপ্যাক ও অভিষেকের ভূমিকা যে পছন্দ নয়, তা আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছিলাম। এই কারণে দলের ফল খারাপ হতে পারে বলেও তখন নেত্রীকে সতর্কও করেছিলাম।” তাঁদের সতর্কবার্তাই সত্যি হয়েছে। ছাব্বিশের ভোটে মাত্র ৮০ টি আসন জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তারপরই দলে বেনজির ভাঙন। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। কালীঘাট তৃণমূল এখন কার্যত টিমটিম করে টিকে রয়েছে।
শনিবার সংবাদমাধ্যমে আবু তাহের রীতিমতো তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘নির্বাচনের পর ৮ তারিখ কালীঘাটে নেত্রীর বাড়িতে বৈঠকে এসে ভোটের ফল খারাপ হওয়ার জন্য একই কথা ফের বলেছি। একই সঙ্গে সাংসদদের সঙ্গে অভিষেকের দুর্ব্যবহার ও মানসিক অত্যাচারের কারণে লোকসভার নেতা পরিবর্তনের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছিলাম, উনি শোনেননি। বাধ্য হয়ে আমরা সরে গিয়েছি।”
নতুন দল এনসিপিআইতে যাওয়া নিয়ে প্রথমে কিছুটা দোটানায় ছিলেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের ও জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান। পরে দ্বিধাদ্বন্দ্ব সরিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে সেই দলে নাম লিখিয়েছেন। তাঁদের এই দলবদল নিয়ে এলাকার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভের সঞ্চার হলেও তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা করায় সকলেই বিষয়টি বুঝতে পারছেন বলে দাবি আবু তাহেরের। একই সঙ্গে তাঁরা জানিয়ে দেন, তাঁরা এনসিপিতেই আছেন। বিজেপিতে নয়। তাঁর কথায়, ‘‘এনডিএ-র নামে বৈঠক হলে আমরা যাব না। ইস্যুভিত্তিক সব হবে।”