সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর পিলখানা! জঙ্গি হামিমের পর গ্রেপ্তার আরও এক যুবক, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র
প্রতিদিন | ০৯ আগস্ট ২০২৬
গত কয়েকদিন আগেই হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা হামিম মন্ডলকে পাকিস্তানি জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা। পিলখানায় হামিমের বাড়ির যেমন খোঁজ পাওয়া যায়, তেমনই একটি কারখানারও সন্ধান পান তদন্তকারীরা। এর পরই পিলখানায় অনেক জায়গায় অস্ত্রশস্ত্র আছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রাই। মন্ত্রীর আশঙ্কা প্রকাশ করার পরই পুলিশের নজরে এখন হাওড়ার পিলখানা। আর সেখানেই তল্লাশি চালিয়ে এক যুবককে গ্রেপ্তার করল গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধৃত ওই যুবকের নাম শেখ ইরফান। বছর ত্রিশের ওই যুবক ১৭ নম্বর পিলখানা ফার্স্ট বাই লেনের বাসিন্দা। তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। কী উদ্দেশ্যে ওই আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিল যুবক তা তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পিলখানা এলাকায় আরও কোথাও এরকম আগ্নেয়াস্ত্র মজুত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে হাওড়া সিটি পুলিশ।
প্রসঙ্গত, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে ধৃত হামিম মন্ডল হাওড়ায় এরকম একজন নেই। হাওড়ার অলিতে গলিতে এরকম অনেক হামিম মন্ডল আছে। পুলিশ তাদের খুঁজে বার করুক। কিছুদিন আগে এভাবেই আশঙ্কা প্রকাশ করে পুলিশকে সর্তক করেছিলেন মন্ত্রী উমেশ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছিলেন, এরকম হামিম মন্ডলদের চিহ্নিত করে পুলিশ ওদের ডেরায় হানা দিলেই মজুত করে রাখা প্রচুর বেআইনি অস্ত্র পাওয়া যাবে। মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘পুলিশ একটাকে ধরেছে। আমার কাছে কিছু ইনপুট আছে যা আমি পুলিশকে জানিয়েছি। বলেছি যে আমার এলাকায় কিছু লোক আছে যারা বিদেশি লোকেদের সঙ্গে কাজ করে। তাদের জন্য কাজ করে। না হলে হঠাৎ করে একটা লোকের কাছে এত পয়সা আসে কোথা থেকে? এত অস্ত্রশস্ত্র আসে কোথা থেকে? আমি পুলিশকে বলবো কিছু লোকের ওপর আমাদের সন্দেহ আছে, যাঁদের বাড়ি সার্চ করলে অনেক আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যাবে।’’ মন্ত্রীর পরামর্শ মতোই পদক্ষেপ শুরু করে পুলিশ। তল্লাশি করতেই আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেপ্তার হল দুষ্কৃতী।