• ‘এবার শান্তি পেয়েছেন তো?’, সনৎ দে’র গ্রেপ্তারিতে ‘পার্থ জেঠু ‘র বিরুদ্ধে বিষোদ্গার মেয়ের
    প্রতিদিন | ০৯ আগস্ট ২০২৬
  • তোলাবাজি, ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ আপাতত গারদে নৈহাটির প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে। তাঁর গ্রেপ্তারির পর তৃণমূল কংগ্রেসের আভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও বেশি করে প্রকাশ্যে এল। যাঁর আশীর্বাদ নিয়ে সনৎ দে এতদিন ধরে এলাকায় দাপট দেখিয়ে বেড়িয়েছেন, বারাকপুরের সাংসদ সেই পার্থ ভৌমিকের উদ্দেশে এবার যাবতীয় রাগ, ক্ষোভ উগরে দিলেন সনৎকন্যা সুদেষ্ণা। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর যে দলে মুষলপর্ব শুরু হয়েছে, তা নয়। পার্থ-সনতের দ্বৈরথ শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। সেইসব দিনের কথা উল্লেখ করে সুদেষ্ণা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘পার্থ জ্যেঠু এবার শান্তি পেয়েছেন তো, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে বাবাকে অ্যারেস্ট করা হল।’ দীর্ঘ পোস্টে আরও অনেক কিছুই লিখেছেন সুদেষ্ণা। যার ছত্রে ছত্রে দুষেছেন সাংসদ পার্থ ভৌমিককে।

    ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে পার্থ ভৌমিক তৃণমূল কংগ্রেস থেকে জিতে বারাকপুরের সাংসদ হয়েছিলেন। তার আগে তিনি ছিলেন নৈহাটির বিধায়ক। সাংসদ হওয়ার পর তাঁর শূন্য আসনে উপনির্বাচন হয়। শোনা যায়, তাতে পার্থর সুপারিশ মেনেই সনৎ দে-কে প্রার্থী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রীর ভরসা রেখে ভালো ব্যবধানে নৈহাটি জেতেন সনৎ। মনে করা হচ্ছিল, তাঁর সঙ্গে সাংসদের সুসম্পর্কই রয়েছে। কিন্তু বাস্তব তেমনটা নয়। ২০১৯ সাল থেকেই নৈহাটিতে নিজের কার্যকলাপ বাড়িয়ে তুলছিলেন সনৎ দে। তার জন্য রাজনৈতিক হামলার শিকারও হতে হয়। সেসময় তিনি পার্থ ভৌমিকের সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু পাননি। ফোন বন্ধ রেখেছিলেন পার্থ ভৌমিক। ফেসবুক পোস্টে এমনই অভিযোগ সনতের মেয়ের। পরে, ২০২৪ সালে সাংসদ হয়ে যাওয়ার পর সনতের সঙ্গে পার্থ দূরত্ব আরও বাড়িয়ে তোলেন বলে অভিযোগ।

    এ প্রসঙ্গে সুদেষ্ণা দে রীতিমতো বিষোদগার করে লিখেছেন, ‘বাবা আপনাকে অন্ধবিশ্বাস করত, এটা সবথেকে বড়ো ভুল ছিল। বাবা আপনাকে নিজের দাদার মতো ভেবে জীবনের সবথেকে বড়ো ভুলটা করেছে। আপনাকে এতটাই শ্রদ্ধা করত যে এবারেও ভোটে নাম বেরনোর পর নিজের পরিবারকে বলার আগে আপনার বাড়ি গিয়ে আশীর্বাদ নিয়ে এসেছিল।’ তাঁর বক্তব্য, ‘এত কিছুর পর আশা করেছিলাম, আপনি খোঁজ নেবেন। যাই হোক ভালো থাকবেন।’ সুদেষ্ণার এই দীর্ঘ পোস্ট থেকেই স্পষ্ট, নৈহাটির ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে চিড় ধরেছিল ঢের আগেই। প্রকাশ্যে আসা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা ছিল। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)