অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর জনরোষের শিকার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! হালিশহরে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জল ও কাদা ছোড়া হয়। জুতোও ছোড়া হয়েছে বলেই খবর। উঠল ‘চোর ও ডাকাতরানি’ স্লোগান।
শুক্রবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিরজু কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। এলাকায় তোলাবাজি-মারামারির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলেই জানান তদন্তকারীরা। পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের পর তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। সন্ধ্যায় তাঁর স্ত্রী জেলে দেখাও করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় বিরজু সুস্থই ছিলেন বলে জানান তাঁর স্ত্রী। হালিশহর থানার পুলিশের দাবি, শুক্রবার ভোররাতে ওই যুবককে অসুস্থ অবস্থায় লকআপে পড়ে থাকতে দেখা যায়। কল্যাণী জহরলাল নেহেরু হাসপাতাল নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। যুবকের শরীরের একাধিক জায়গায় হাত-পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও অভিযোগ। পরিবারের আরও অভিযোগ, সকালে হালিশহর থানার পুলিশ কল্যাণী হাসপাতালে বিরজুর দেহ রেখে চলে যায়।
ওই নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রবিবার দুপুরে হালিশহরে যান বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, উপাসনা চৌধুরী। বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। তাঁকে লক্ষ্য করে জল ও কাদা ছোড়া হয়। জুতোও ছোড়া হয়। ‘চোর ও ডাকাতরানি’ স্লোগানও দেওয়া হয়। যদিও প্রবল বিক্ষোভের মাঝেই নিহত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন মমতা। বিক্ষোভের ঘটনার প্রবল সমালোচনা করেন। মমতা বলেন, “আমরা তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। বিজেপি ইট মেরেছে। গাড়ির কী অবস্থা করেছে দেখুন। বাংলা গুন্ডাদের হাতে চলে গিয়েছে।” কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায় নিন্দা করে বলেন, “পরিকল্পনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মারার চক্রান্ত হচ্ছে। সঠিক বিচার হবেই।” পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় ডিজি এবং সিপির ইস্তফা দাবি করেন তিনি।