‘তোলাবাজি করলে ডিমভাজি ফ্রি’, বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণে’র বিরুদ্ধে পোস্টার দলীয় কর্মীর
প্রতিদিন | ০৯ আগস্ট ২০২৬
তৃণমূল জমানায় দেদার দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। কিন্তু আমজনতা দলের সেই ছোট-বড় নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেননি। ছাব্বিশে সরকার বদলের পর সেই ছাইচাপা ক্ষোভ লাভাস্রোতের মতো বেরিয়ে এসেছে। রাজ্যের দিকে দিকে তৃণমূলের সেসব দুর্নীতিবাজ নেতাদের দেখলেই চলছে ‘ডিম হামলা’। তা বন্ধে সরকার ও শাসকদলের সদর্থক উদ্যোগ থাকলেও জনতা সেসব কানে তুলছেন না। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সতর্ক করেছিলেন, এই ডিম হামলার অভিমুখ বদলাতে বেশি সময় লাগবে না। অর্থাৎ যে কোনও সময়ে বিজেপি নেতাদের উপরই ‘ডিম থেরাপি’ চলতে পারে। এবার একই সতর্কবার্তা দিলেন দলের কর্মীই। করুণাময়ী মোড়ে পোস্টার পড়ল, ‘তোলাবাজি করলে ডিমভাজি ফ্রি’।
পোস্টারদাতা স্থানীয় বিজেপি কর্মী সঞ্জয় পয়রা। তাঁর পোস্টারে লেখা – ‘দলে তৃণমূলীকরণ হচ্ছে বলেই তোলাবাজি চলছে বেড়েই/ তোলাবাজি করলে ডিমভাজি ফ্রি’। এনিয়ে সঞ্জয় পয়রার সাফ কথা, ‘‘আমরা বিজেপির একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে বলতে চাই, দেখতে পাচ্ছি যে দলের আধখোলা দরজা দিয়ে তৃণমূলীকরণ হচ্ছে। সেটা আমাদের খারাপ লাগছে। আমাদের কাছে বা পশ্চিমবঙ্গের জনতার কাছে এটা কাঙ্খিত ছিল না। কারণ, ২০৮ টা আসন নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। সেটা তো সম্পূর্ণ মানুষের রায়ে। তাতে ভালো-খারাপ কোনও তৃণমূলই ছিল না। আমরা দেখছি, এখন দলের আধখোলা দরজা দিয়ে তৃণমূল নেতারা ঢুকছেন, তাঁরা নিজেদের সেই আগেকার তোলাবাজির অভ্যাস কিছুতেই ছাড়তে পারছে না। এই দলে এসেও এসব করে দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চাইছে। এসব যাতে বন্ধ হয়, তার জন্য আমি এই পোস্টারটি লাগিয়েছি।”
সঞ্জয় পয়রার এই পোস্টের নেপথ্যে অবশ্য বেশ কিছু কারণও আছে। শমীক ভট্টাচার্যর সতর্কবার্তার পরই কোচবিহারের শীতলকুচিতে বিজেপির মণ্ডল সভাপতিকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছিল। সঞ্জয়ের দাবি, দলে বেশি তৃণমূলীকরণ হলে অর্থাৎ তোলাবাজি করলে তাদের ডিম খাওয়াই উচিত।